বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে—এমন সময়ে উল্টো চিত্র দেখাল অ্যান্টার্কটিকা। বরফের চাদরে ঢাকা এই দুর্গম অঞ্চলে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড ধরা পড়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বুঝতে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
কনকর্ডিয়া গবেষণাকেন্দ্রে চরম শীত

কনকর্ডিয়া গবেষণাকেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ১৮ জুলাই অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৮৪.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই মানটি গত ১৪ বছরের মধ্যে পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
গত রেকর্ডের সঙ্গে মিল-অমিল
এর আগে ২০১২ সালে পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার ভোস্টক স্টেশনে মাইনাস ৮৪.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। কনকর্ডিয়া স্টেশনটিও বেশ উঁচু এলাকায়—সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ঠান্ডা
এই অঞ্চলে বছরের এই সময়ে সাধারণত তাপমাত্রা মাইনাস ৮০ ডিগ্রির নিচে নামার কথা। কিন্তু এবার সেখানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শীত পড়েছে। কনকর্ডিয়া গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বলেছেন, এমন চরম ঘটনা অ্যান্টার্কটিকার আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা তুলে ধরে।
কেন এমন চরম শীত হয়
মহাকাশ স্টেশনের তুলনায় কনকর্ডিয়ার বিচ্ছিন্নতা অনেক বেশি। শীতকালে মাসের পর মাস সূর্যের আলো থাকে না, আবার বায়ুমণ্ডলও খুব শুষ্ক থাকে। মেঘ না থাকায় টানা তাপ আকাশে চলে যায়—ফলে তাপমাত্রা অসাধারণ মাত্রায় নেমে যেতে পারে।
অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা ওঠানামা
কনকর্ডিয়ার সর্বকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হিসেবে মাইনাস ৮৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কথাও বলা হয়েছে, যা ২০১০ সালের শীতকালে রেকর্ড করা হয়েছিল। আবার পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার বড় রেকর্ড রয়েছে ভোস্টক স্টেশনে—মাইনাস ৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উপগ্রহের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা আরও বলছেন, পূর্ব অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে যেতে পারে। এমনকি চলতি বছরের অন্য সময়ে কনকর্ডিয়ায় তাপমাত্রা মাইনাস ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলেও উল্লেখ আছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য অর্থ কী? বিশ্বে গরম বাড়লেও কোথাও কোথাও এমন চরম শীতের রেকর্ড দেখায়—জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সমানভাবে কাজ করে না। তাপমাত্রার এই ওঠানামা ভবিষ্যতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
অ্যান্টার্কটিকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডটি কোথায় ধরা পড়েছে? কনকর্ডিয়া গবেষণাকেন্দ্রের তথ্যে।
বিশ্বে গরম বাড়লেও এখানে এমন শীত কেন? শীতকালে সূর্যের আলো না থাকা, শুষ্ক বায়ু, মেঘ কম থাকা এবং টানা তাপ বাইরে চলে যাওয়ার মতো পরিবেশগত কারণ প্রভাব ফেলে।
এটা কি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত? গবেষকরা বলছেন, এটি অঞ্চলের আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা এবং চরম আবহাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









