GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিশেষ খবর / খুব কম আম, চড়ছে দাম—কষ্টে ক্রেতারা

খুব কম আম, চড়ছে দাম—কষ্টে ক্রেতারা

ঢাকার ফলের দোকানে আমের দাম ও বিভিন্ন জাতের আম

ঢাকার ফলের বাজারে আম এখন হাতের নাগালে নেই—মৌসুম শেষের পথে গিয়ে সরবরাহ কমেছে, আর দাম বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। আগের দামে যে আম কেনা যেত, এখন সেই দামে নিম্নমানের আমও জোটে না বলেই অভিযোগ ক্রেতাদের।

মৌসুমের শেষ, বাজারে জাতও কম

ঢাকার ফলের দোকানে আমের দাম ও বিভিন্ন জাতের আম

বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফলের দোকান ঘুরে দেখা যায়, বাজারে মূলত ছোট আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ফজলি ও আশ্বিনা জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, নতুন আম আসার গতি কমে যাওয়ায় বাজারে আমের জোগান টানতে হিমশিম খাচ্ছে। এখন যে পরিমাণ আম আছে, তা মূলত রাজশাহী থেকে আসছে।

দাম বেড়েছে কয়েক গুণ

বর্তমানে ছোট আম্রপালি প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বারি-৪ ১৩০ থেকে ১৯০ টাকা, কাটিমন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা। ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং আশ্বিনা ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।

ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, কয়েক সপ্তাহ আগেও বড় ও ভালো মানের আম্রপালি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যেত। তখন ছোট আম্রপালির দাম ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা। বারি-৪ আমও ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে মিলেছে। এখন একই ধরনের আমের দাম অনেকটা লাফ দিয়ে আকাশ ছোঁয়ায় বাজেট চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

দামের ব্যবধানে ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন

মৌসুমের শেষদিকে দাম একটু বাড়বে—ক্রেতারা এটাকে স্বাভাবিক ধরছেন। কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বাড়তি চাপ বেশি বলেই তারা জানাচ্ছেন। সাধারণত শেষদিকে আম্রপালির দাম ১২০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকার কথা থাকলেও এবার তা ২৫০ টাকার ওপরে। বারি-৪ এর দামও প্রায় ২০০ টাকায় পৌঁছেছে।

আর কোথাও একই ধরনের আম ১২০ টাকায়, আবার কোথাও ১৮০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—কারা কীভাবে দাম ধরছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, দামের কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই, ফলে বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম স্থির করছেন।

বেসরকারি চাকরিজীবী ও পরিবারের অভিজ্ঞতা

রামপুরা বাজারে ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগেও বড় আম্রপালি ৮০ টাকার মধ্যে কেনা হয়েছিল। এখন ছোট ছোট আম্রপালি ২৫০ টাকা কেজি দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের সবার পছন্দ থাকলেও এই দামে আম কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে—তাই কিছুটা কম দামে বারি-৪ কিনেছেন বলেও তিনি জানান।

খিলগাঁওয়ের অপূর্ব রায়হান জানান, বাসায় আত্মীয়ের মেহমান থাকায় আম কিনতে এসে ঘুরে ঘুরে আম্রপালি মিললেও দাম অনেক বেশি। ফলে কিছুটা কম দামে ফজলি নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগে ফজলি ৫০ টাকাতেও পাওয়া যেত, এখন ৫০ টাকা দিয়ে আশ্বিনা পাওয়া যাচ্ছে না।

মালিবাগের সুমাইয়া সুমি জানান, সারা মৌসুমেই বিভিন্ন জাতের আম খেয়েছেন। কিন্তু এখন বাজারে জাতও কমেছে, দামও বেশি। আগের দামে যে বিকল্প আম কেনা যেত, তা আর মিলছে না—ফলে বাজার ঘুরেও হতাশ হতে হচ্ছে অনেকের।

প্রবাসীদের জন্য বার্তা

ঢাকার বাজারের এই চিত্র প্রবাসী পরিবারগুলোর বাজেটেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। উৎসব-পারিবারিক আপ্যায়নে আমের চাহিদা থাকে—কিন্তু মৌসুমের শেষে অস্বাভাবিক দামের চাপে অনেকেই খরচ কমিয়ে বিকল্পের দিকে যেতে বাধ্য হন।

প্রশ্ন: মৌসুম শেষের পথে কেন দাম বাড়ছে?
উত্তর: নতুন আম কম আসায় বাজারে সরবরাহ টানতে কষ্ট হচ্ছে। তাই দাম বাড়ছে।

প্রশ্ন: এখন কোন কোন জাতের আম বেশি পাওয়া যাচ্ছে?
উত্তর: প্রধানত ছোট আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ফজলি ও আশ্বিনা।

প্রশ্ন: আগের দামের সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য কতটা?
উত্তর: কয়েক সপ্তাহ আগেও যে দামে ভালো মানের আম মিলত, এখন সেই দামে নিম্নমানের আমও পাওয়া কঠিন হচ্ছে বলে ক্রেতারা বলছেন।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons