প্রায় এক বছর থমকে থাকা সীমান্ত বাণিজ্য ফের সচল হওয়ায় টেকনাফ স্থলবন্দরে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। মে মাস থেকে মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই ট্রলার আসায় বন্দরের শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কর্মব্যস্ততা বাড়ছে।
দীর্ঘ স্থবিরতা শেষে কর্মচাঞ্চল্য

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত শুরুর পর প্রায় এক বছর টেকনাফ স্থলবন্দরের মাধ্যমে সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ছিল। এই বিরতি কাটিয়ে ২০২৬ সালের মে মাস থেকে মিয়ানমার দিক থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে আসতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল হতে থাকে।
রপ্তানিতে গতি, কিন্তু আমদানি এখনো পিছিয়ে
বাণিজ্য আবার চালু হওয়ায় বন্দরের ভেতরে যেমন কাজ বাড়ছে, তেমনি স্থলবন্দর সংলগ্ন কক্সবাজার-টেকনাফ হাইওয়ে সড়কের পাশের চায়ের দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মতৎপরতাও বেড়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের পর্যবেক্ষণ—রপ্তানি কার্যক্রমে গতি এলেও প্রত্যাশিত মাত্রায় আমদানি এখনো শুরু হয়নি।
শ্রমিকদের টিকে থাকা জীবনেও বদল
টেকনাফ বন্দরের শ্রমিকদের জন্য কাজ ফেরার প্রভাবটা সরাসরি। দীর্ঘদিন বন্দরে কাজ বন্ধ থাকায় অনেক শ্রমিককে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। এখন বন্দর কার্যক্রম চালু হওয়ায় শ্রমিকরা নিয়মিত কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ওই দুর্ভোগ কিছুটা কাটতে শুরু করেছে।
কোন পণ্য যাচ্ছে আর কোন পণ্য আসছে
টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে বর্তমানে সীমিত পরিসরে সীমান্ত বাণিজ্য চলছে। মিয়ানমার থেকে মূলত কাঠ আমদানি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে আলু, কোমল পানীয়, বোতলজাত পানি, প্লাস্টিকজাত পণ্য, বিস্কুটসহ দেশীয় উৎপাদিত পণ্য মিয়ানমারে রপ্তানি করা হচ্ছে।
কাস্টমসের হিসাব বলছে—রপ্তানি আয় বেশি
কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩ লাখ ১০ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার। জুন মাসে তা বাড়ে, আর একই সময়ে আমদানি রাজস্ব আদায়ও হয়েছে। জুলাই মাসে আমদানি রাজস্ব আদায় কমলেও রপ্তানি আয় রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানির তুলনায় রপ্তানির পরিমাণ বেশি।
বন্দরজুড়ে বাণিজ্য ফিরে আসায় কর্মসংস্থান ও আয়ের গতি বাড়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূর্ণাঙ্গভাবে আমদানি-রপ্তানি ফের চালু হলে শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা স্বাভাবিক গতিতে এগোতে পারবে বলে তারা মনে করছেন।
প্রশ্নোত্তর
টেকনাফ স্থলবন্দরে বাণিজ্য বন্ধ ছিল কতটা সময়?
রাখাইন সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রায় এক বছর সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ছিল।
মে মাসে কী কারণে বন্দর আবার সচল হয়?
মিয়ানমার থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে আসতে শুরু করায় আমদানি-রপ্তানি ধীরে ধীরে সচল হয়।
রপ্তানির অবস্থা কেমন, আমদানির অবস্থা কেমন?
রপ্তানিতে গতি এলেও আমদানিতে প্রত্যাশিত মাত্রায় অগ্রগতি এখনো হয়নি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









