GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন সূচক কমেছে

শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন সূচক কমেছে

শেয়ারবাজারের দরপতনে ডিএসই সূচকের পরিবর্তনের একটি গ্রাফধর্মী চিত্র

শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতনের ধাক্কায় দিনভর দরদামে উল্টো পাল্টা চাপ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক ও অন্যান্য সূচক কমে লেনদেন শেষ হলেও লেনদেনের পরিমাণ মোটামুটি বেড়েছে।

ডিএসইতে শেষ মুহূর্তে দরপতন

শেয়ারবাজারের দরপতনে ডিএসই সূচকের পরিবর্তনের একটি গ্রাফধর্মী চিত্র

দিনের শুরুতে কিছুটা আশার আলো ছিল। ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় মিউচুয়াল ফান্ডসহ বিভিন্ন খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফলে প্রথম দিকে মূল্য সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেখা যায়।

কিন্তু শেষ আড়াই ঘণ্টায় বাজারে এক প্রকার ঢালাও দরপতন নামে। দাম কমার তালিকা দ্রুত বড় হয় এবং মূল্য সূচক নামতে নামতে দিনের শেষে কমেই দাঁড়ায়।

দাম বাড়া-কমা ও মিউচুয়াল ফান্ডের চিত্র

দিন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বেড়েছে ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। বিপরীতে দাম কমেছে ২৬৩টির এবং ৪১টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

মিউচুয়াল ফান্ড অংশে পরিস্থিতি আরও মিশ্র ছিল—২টির দাম বাড়লেও ৩০টির দাম কমে। একই সময়ে ২টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

লভ্যাংশওয়ালাদের মধ্যে দোলাচল

যাদের মধ্যে ভালো কোম্পানি হিসেবে ধরা হয় এবং যারা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, তাদের মধ্যেও দামে ওঠানামা দেখা গেছে। ৪৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৩৯টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

অন্যদিকে ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৮টি কোম্পানির শেয়ারে দাম বাড়লেও ৫২টির দাম কমে। ৪টির দাম অপরিবর্তিত থাকে।

সূচক কমলেও লেনদেন কিছুটা বেশি

দরপতনের প্রভাবে ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে নেমেছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৯১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্য সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে ছিল ১ হাজার ১১১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা—অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় লেনদেন কমপক্ষে ৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকার ব্যবধানে বেশি ছিল।

এই লেনদেনে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এরপর ছিল সেনা ইন্স্যুরেন্স ও একমি পেস্টিসাইড।

সিএসইতেও কমেছে সূচক

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬৪ পয়েন্ট। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৭টির দাম বেড়েছে; বাকি অংশে দাম কমা ও অপরিবর্তিত থাকার পাল্লাও দেখা গেছে।

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই ধরনের ঢালাও দরপতন মানে—পোর্টফোলিওর মূল্য কমার ঝুঁকি বাড়ে, আর কেনা-বেচার সিদ্ধান্তে আরও সতর্কতা দরকার। সূচক কমার দিনগুলোতে বাজারের গতি দেখে ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করা সহজ হয়।

সংক্ষেপে যা মনে রাখবেন

  • দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী ভাব থাকলেও শেষের দিকে ঢালাও দরপতন হয়।
  • ডিএসই ও সিএসই—দুই বাজারেই সূচক কমেছে।
  • মূল্য সূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।

প্রশ্ন: সূচক কমা কি সব বিনিয়োগকারীর জন্য খারাপ বার্তা?
উত্তর: সাধারণভাবে ঝুঁকি বাড়ায়, তবে দাম কমার মধ্যেও প্রতিষ্ঠানভেদে সুযোগ থাকতে পারে—ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জরুরি।

প্রশ্ন: লেনদেন বেড়েছে মানে কি বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে?
উত্তর: লেনদেন বাড়া মানে অংশগ্রহণ বাড়ে; তবে আজকের মতো সূচক কমাও হতে পারে—সেটি দামের চাপের দিকটা দেখায়।

প্রশ্ন: মিউচুয়াল ফান্ডের দামে পরিবর্তন কীভাবে প্রভাব ফেলে?
উত্তর: এগুলো বাজারে মনোভাব ও তারল্যের ইঙ্গিত দেয়; দাম কমলে সামগ্রিক মনোভাবেও চাপ পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons