জাতীয় বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব বার্তা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে—এমনটাই বলছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সংস্থাটি বলছে, কর স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ শিথিলের প্রস্তাবগুলো বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে, ফলে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পথে অনিশ্চয়তা কমানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
বিডার দাবি: খাতভিত্তিক প্রস্তাবের বড় অংশ প্রতিফলিত

বিডা জানায়, তাদের ১৭টি খাতভিত্তিক ও নীতিগত সুপারিশের মধ্যে ১৪টি এবং ১৯টি নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ প্রস্তাবের মধ্যে ১২টি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে বাজেটের বিভিন্ন বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
অনুমোদন দ্রুত করতে সিঙ্গেল উইন্ডো ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে ব্যবসায়িক অনুমোদনে ১৪ দিনের সেবা নিশ্চয়তার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হলে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বন্ড লাইসেন্সের মেয়াদ তিন বছর করা এবং বন্ড সুবিধার পরিধি সম্প্রসারণের কথাও উঠে আসে।
শুল্ক ছাড়, পরীক্ষা গ্রহণ ও কর প্রশাসন সহজ করার উদ্যোগ
বিডা উল্লেখ করে, অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর ব্যবস্থার আওতায় দ্রুত শুল্ক ছাড়ের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি পরীক্ষাগারের পরীক্ষার প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। কর প্রশাসন সহজ করতে মুনাফা প্রত্যাবাসনের সময়সীমা নির্ধারণ, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ছাড়াই প্রত্যাবাসনের সীমা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক ইলেকট্রনিক ভ্যাট ফাইলিং, স্বয়ংক্রিয় বিআইএন ইস্যু ও রিফান্ড এবং নিরীক্ষা এক বছরের মধ্যে শেষ করার বিধান রয়েছে।
প্রণোদনা ও শর্ত শিথিল: রপ্তানি ও বিনিয়োগে চাপ কমানোর বার্তা
কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাতে প্রয়োজনীয় অগ্রিম জমার পরিমাণ কমানোর কথাও জানায় বিডা। পাশাপাশি শুল্কমুক্ত আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। মোটরসাইকেল, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বৈচিত্র্যময় পাটপণ্য, হস্তশিল্প ও পুনর্ব্যবহৃত বস্ত্রসহ আরও খাতকে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি কর স্থিতিশীলতা: ২০৩০-৩১ পর্যন্ত আগাম নিশ্চয়তা
দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার অংশ হিসেবে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয়করের সীমা ও করস্তর আগাম নির্ধারণের উদ্যোগ এসেছে বলেও জানায় বিডা। আরও বলা হয়, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌরবিদ্যুৎ ও স্টার্টআপ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর ও ভ্যাট সুবিধা রাখা হয়েছে। দেশীয় তেলবীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনে ১০ বছরের কর অবকাশও ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ—কারণ বিনিয়োগে গতি এলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ বাড়ে। পাশাপাশি কর ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা থাকলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়।
প্রশ্নোত্তর
বিডা কেন বলছে বাজেটে কর স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল এসেছে?
তাদের প্রস্তাবগুলোর বড় অংশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
ব্যবসায়িক অনুমোদনে সময় কমানোর কী ব্যবস্থা আছে?
সিঙ্গেল উইন্ডোর মাধ্যমে ১৪ দিনের সেবা নিশ্চয়তা এবং সময় পার হলে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় কী সুবিধার কথা বলা হয়েছে?
২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয়করের সীমা ও করস্তর আগাম নির্ধারণের পাশাপাশি কিছু খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর ও ভ্যাট সুবিধার কথাও উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









