GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / চীনের বাজার কমছে, সুবিধা তুলতে পারছে না বাংলাদেশ

চীনের বাজার কমছে, সুবিধা তুলতে পারছে না বাংলাদেশ

তৈরি পোশাক রপ্তানি ও কারখানা উৎপাদন কাজে ব্যস্ত শ্রমিকদের ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানিতে বড় অংশ হারাচ্ছে চীন। কিন্তু সেই ক্রেতার চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ টানতে পারছে না বাংলাদেশ—ফলে রপ্তানির গতি কমেছে, যা প্রবাসীসহ সবার রেমিট্যান্স-নির্ভর কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ ভাবায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পতন, বাংলাদেশ পিছিয়ে

তৈরি পোশাক রপ্তানি ও কারখানা উৎপাদন কাজে ব্যস্ত শ্রমিকদের ফাইল ছবি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাকের বাজার হারিয়েছে। তবে বাংলাদেশ সেই হারানো অংশের উল্লেখযোগ্য সুবিধা নিতে পারেনি। বরং ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগীরা রপ্তানি বাড়িয়ে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।

আমদানি কমলেও বাংলাদেশে পড়েছে আলাদা চাপ

যুক্তরাষ্ট্র মোট তৈরি পোশাক আমদানিতে গত বছরের তুলনায় কমেছে। তবু বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমেছে আরও বেশি—৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। একই সময়ে চীন, ভারত, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও হন্ডুরাস থেকেও আমদানি কমেছে। বিপরীতে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে।

কেন সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, গত বছর পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের চাহিদা কমতে শুরু করে। পাশাপাশি চীনের ক্রয়াদেশের বড় অংশ চলে যায় ভিয়েতনামে, কিছু যায় ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ায়। বাংলাদেশে আসে তুলনামূলক কম।

মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, চীন থেকে সরে আসা ক্রয়াদেশের বড় অংশ আসে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যানমেইড পোশাক ঘিরে—যেখানে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলনামূলক কম। আর ফাস্ট ফ্যাশনের ক্রয়াদেশে যে দ্রুত সরবরাহ দরকার, সেখানে দীর্ঘ লিড টাইমের কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকে। সোর্সিং ভালো না হওয়া এবং লজিস্টিকস দুর্বল থাকাও রপ্তানি কমার সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র—তবু কমছে রপ্তানি

বাংলাদেশের একক বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। গত ফেব্রুয়ারিতে সেখানে বাংলাদেশ চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশে ওঠে। জুন শেষে সেই অবস্থান ধরে থাকলেও জানুয়ারি-জুনে রপ্তানি কমে গেছে। এই কমতি যদি টেকসইভাবে না থামে, তাহলে কারখানাভিত্তিক কর্মসংস্থান, বিনিয়োগের গতি এবং প্রবাসী পরিবারের আয়ের প্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি মোটামুটি বাড়লেও, চলতি বছরের শুরুতে কমার ধারা সেই সুবিধাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে। প্রতিযোগীদের দ্রুত লিড টাইম ও সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগছে বলেই দৃশ্যপট বদলাচ্ছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বার্তা কী

রপ্তানি কমা মানে শিল্পকারখানায় চাপ তৈরি হওয়া। এতে চাকরির স্থায়িত্ব, আয়-উপার্জনের ধারাবাহিকতা এবং পরিবারকে পাঠানো অর্থে অনিশ্চয়তা আসতে পারে। তাই খাতটির সক্ষমতা বাড়ানো—বিশেষ করে নন-কটন ও দ্রুত ডেলিভারির সক্ষমতা—এখন সরাসরি অর্থনীতির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্ন-উত্তর

বাংলাদেশ কেন যুক্তরাষ্ট্রে সুযোগ কম নিতে পারছে?
কৃত্রিম তন্তু/ম্যানমেইড পণ্যে সক্ষমতা তুলনামূলক কম, আবার ফাস্ট ফ্যাশনের ক্ষেত্রে লিড টাইম ও লজিস্টিকসের দুর্বলতাও বড় বাধা।

চীনের বাজার হারানোর লাভ কে নিচ্ছে?
ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো রপ্তানি বাড়িয়ে সুযোগটি নিচ্ছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার কোনটি?
যুক্তরাষ্ট্র—বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম গন্তব্য এটি।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons