এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা যখন নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় আটকে যায়, তখন বিজ্ঞানশিক্ষার প্রাণটাই হারিয়ে যায়—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, শুধু ফল আর নম্বরের হিসাবই যেন লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর পরীক্ষাগারের মেধাবিকাশ ধাক্কা খাচ্ছে।
ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়ে উঠছে খাতা পূরণ

বিজ্ঞানশিক্ষার মূল শক্তি হলো নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান, পর্যবেক্ষণ, নিয়মতান্ত্রিক পরীক্ষণ আর যুক্তিবোধ। কিন্তু বাস্তবে ব্যবহারিক অংশে সেটি কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। ফলে শিক্ষার্থীরা “বিজ্ঞানী হওয়ার” অনুভবটা পাচ্ছে না—পরীক্ষাগার হয়ে উঠছে পাঠ্যবইয়ের বাইরে দেখার সুযোগ নয়, বরং শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।
পরীক্ষাগারের বদলে মুখস্থের প্রাধান্য
একদিকে বইয়ের ধারণা, অন্যদিকে পরীক্ষাগারে টেস্টটিউব, বিক্রিয়ার রং বদলানো, টাইট্রেশনের শেষ বিন্দু নির্ণয় বা অজ্ঞাত লবণের বিশ্লেষণ—এই অভিজ্ঞতাই শিক্ষার্থীর ভেতর বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে। কিন্তু যখন সেই অভিজ্ঞতাই অনিশ্চিত বা অনুপস্থিত, তখন বিজ্ঞানশিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হয়।
দক্ষ প্রদর্শকের সংকটে ল্যাবরেটরি স্থবির
উঠে এসেছে প্রদর্শক-প্রভাষকের পদোন্নতি ও জনবল বিন্যাসের প্রভাব নিয়েও। ল্যাবভিত্তিক দীর্ঘ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ঠিকভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ আছে। এর ফল হিসেবে রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় সামলানোর মতো দক্ষ জনবলের ঘাটতি দেখা দেয়।
যন্ত্রপাতি পড়ে থাকে, সংকট বাড়ে
সরকারি কলেজগুলোর ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কিছু জায়গায় যন্ত্রপাতি বহুদিন ব্যবহার ছাড়াই পড়ে থেকে মরচে ধরছে। আবার কোথাও রাসায়নিকের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট, আবার কোথাও পদ শূন্যতা—এভাবে ল্যাবরেটরি কার্যত নিথর হয়ে পড়ছে। কোথাও পরিদর্শনের দিনকে ঘিরে সাজসজ্জার প্রবণতাও আছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বোর্ডে ২৫-এ ২৫, কিন্তু ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা নেই
সবচেয়ে চিন্তার জায়গা—অনেক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পার করেও জীবনে একটিও মৌলিক পরীক্ষার অভিজ্ঞতা পায়নি বলে বলা হয়েছে। তবু বোর্ড পরীক্ষায় ব্যবহারিক মূল্যায়নে তারা পূর্ণ নম্বর পাচ্ছে। এই ব্যবধানই প্রশ্ন তুলেছে মূল্যায়ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশে বিজ্ঞানশিক্ষা দুর্বল হলে তার প্রভাব পড়ে কর্মজীবনের ভবিষ্যৎেও। বিদেশে পড়াশোনা বা দক্ষতা কাজে লাগাতে গেলে পরীক্ষাগারে গড়া সক্ষমতাই সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই প্রবাসী পরিবারের প্রত্যাশা—যোগ্য শিক্ষার্থী তৈরি—এই সংকট ঠিক না হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি বাড়বে।
প্রশ্ন–উত্তর
এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষায় মূল সমস্যা কী?
বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যবহারিক শিক্ষা অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতায় নেমে এসে পরীক্ষাগারের বাস্তব অভিজ্ঞতা কমিয়ে দিচ্ছে।
ল্যাবরেটরি কেন কার্যত থমকে যাচ্ছে?
দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ/যন্ত্রপাতির ব্যবহার-সংকটের কথা বলা হয়েছে।
বোর্ডে ভালো নম্বরের পরও উদ্বেগ কেন?
আশঙ্কা হলো—মূল্যায়নে ফল ভালো হলেও বাস্তব দক্ষতার অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর নেই।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









