ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে—কিন্তু তা যেন সংঘাত বা সহিংসতায় গড়ায় না, সে ব্যাপারে সবার দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা বলেছেন ঢাবি উপাচার্য। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ রাখাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন তিনি।
সংঘাতের পুনরাবৃত্তি চায় না ঢাবি

শুক্রবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপাচার্য বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের যেসব ঘটনা ঘটছে, তার কোনো পুনরাবৃত্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখতে চায় না বিশ্ববিদ্যালয়। রাজনৈতিক বা আদর্শিক পার্থক্য থাকলেও সেটি সংঘাতের দিকে যাবে—এমন বাস্তবতা কাম্য নয় বলে তিনি জোর দেন।
মতপার্থক্য যেন বিভেদে না বদলায়
উপাচার্য উল্লেখ করেন, ভিন্নমতকে গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক অংশ ধরতে হবে। কিন্তু ভিন্নমত কোনোভাবেই বিভেদ বা সহিংসতার কারণ হতে পারে না। বিরোধ বা মতপার্থক্য হলে তা আলোচনা ও যুক্তির ভিত্তিতে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান তিনি।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার কথা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দেখেননি। মুক্তচিন্তা, যুক্তিবাদ, জ্ঞানচর্চা, মানবিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশাসনের অগ্রাধিকার
ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানান উপাচার্য। এ বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান
ঢাবির সব অংশীজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, শৃঙ্খলা ও প্রচলিত বিধি-বিধান মেনে চলার জন্য আহ্বান জানান উপাচার্য। এই উদ্যোগের লক্ষ্য—ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখা, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
ঢাবি উপাচার্য কী বিষয়ে জোর দিলেন?
রাজনৈতিক বা আদর্শিক মতপার্থক্য যেন সংঘাত বা সহিংসতায় না গড়ায়—এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মতপার্থক্য হলে কীভাবে সমাধানের কথা বলা হয়েছে?
আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যুক্তি দিয়ে সমাধানের কথা বলা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি হলে কী হবে?
তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের অবস্থান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









