GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / কানাডায় ফেরত পাঠানোয় শীর্ষে ভারত

কানাডায় ফেরত পাঠানোয় শীর্ষে ভারত

কানাডার সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির পরিসংখ্যান সংক্রান্ত প্রতীকী চিত্র

কানাডা থেকে বিদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো—এই চিত্রটা চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে স্পষ্টভাবে বদলাচ্ছে। সিবিএসএ বলছে, মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর তালিকার শীর্ষে আছে ভারত; বাংলাদেশ আছে সপ্তম স্থানে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আইনের সঙ্গে অসংগতির ঝুঁকিই এখানে বড় হয়ে উঠছে।

প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা

কানাডার সীমান্ত ও অভিবাসন নীতির পরিসংখ্যান সংক্রান্ত প্রতীকী চিত্র

কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত কানাডা থেকে মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে—৩ হাজার ৩২৩ জন।

ভারতের পর কে কোথায়—বাংলাদেশ সপ্তম

ভারতের পরেই রয়েছে মেক্সিকো—১ হাজার ৫৭৩ জন। এরপরের তালিকায় আছে হাইতি, যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া ও রোমানিয়া। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আছে সপ্তম স্থানে; ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে ২২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তালিকায় আরও দেখা যায়—পাকিস্তান থেকে ২০৭, নাইজেরিয়া থেকে ২০৫ এবং চিলি থেকে ১৯০ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

আগের বছরের তুলনায় প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী

কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর হার কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। ২০২০ সালে ছিল ১ হাজার ৪২৪, ২০২১ সালে নেমে ৬০৩, এরপর আবার বেড়ে ২০২২ সালে ৭৮৬, ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৩২ এবং ২০২৪ সালে ২ হাজার ৪ জনে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে সেটা আরও বাড়ে—৩ হাজার ৭৭৯ জন।

প্রথম ছয় মাসের এই হিসাবও একই দিক নির্দেশ করছে—মোট ফেরত পাঠানোর সংখ্যাই বাড়ছে দ্রুত। ২০২০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে মোট বার্ষিক ফেরত পাঠানো প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালে মোট ফেরত পাঠানো ছিল ২৩ হাজার ১৬০ জন, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।

কেন ফেরত পাঠানো—অভিবাসন আইন মেনে না চলাই বড় কারণ

সিবিএসএ’র পরিসংখ্যান বলছে, ফেরত পাঠানোর প্রধান কারণ অপরাধ নয়; বরং অভিবাসন আইন মেনে না চলা। বিশেষ করে শরণার্থী (রিফিউজি) দাবিদারদের ক্ষেত্রে এই ধরনের অসংগতি বেশি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে মোট ২৩ হাজার ১৬০টি ফেরত পাঠানোর মধ্যে ১৯ হাজার ২২৫টি ছিল Refugee claimants-এর Non-compliance বা অভিবাসন আইনের সঙ্গে অসংগতির কারণে।

অন্যদিকে অপরাধের কারণে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৬ জন। সংগঠিত অপরাধ—৯৮, ভুল তথ্য দেওয়ার ঘটনা—১৪৫, এবং শরণার্থীর (refugee status cessation) ক্ষেত্রে দেশের ফেরত পাঠানোর ঘটনা—৪৬টি। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে তথ্যের ধারায় ইঙ্গিত মিলছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বার্তাটা কী

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এই খবরের বাস্তব বার্তা হলো—কাগজপত্র, আবেদনের শর্ত, থাকা-সংক্রান্ত নিয়ম এবং সময়মতো আপডেট—এসব ক্ষেত্রে কোনো অসতর্কতা যেন বড় ঝুঁকিতে না পরিণত হয়। ফেরত পাঠানোর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নিয়ম মানা ও আইনি অবস্থান ঠিক রাখা এখন আগের চেয়ে বেশি জরুরি।

প্রশ্ন-উত্তর

বাংলাদেশ কতজনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে?
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কানাডা থেকে ২২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফেরত পাঠানোর বড় কারণ কী?
প্রধান কারণ অপরাধ নয়; অভিবাসন আইন মেনে না চলা—বিশেষ করে শরণার্থী দাবিদারদের ক্ষেত্রে।

তালিকায় শীর্ষে কে?
ভারত।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: nagorik.prothomalo.com

Social Icons