জ্বালানি খাত বেসরকারি কোম্পানিকে দেওয়ার উদ্যোগ স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভাঙা নয়—এটি একচেটিয়ার আরেক রূপ, যা জনগণের জন্য আরও বড় সংকট ডেকে আনতে পারে।
বেসরকারিকরণকে ‘হস্তান্তর’ বলছে জামায়াত

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের কাজ বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটিকে ‘সংস্কার’ বলা যাবে না; তাদের দৃষ্টিতে এটি ‘হস্তান্তর’—আর ‘প্রতিযোগিতা নয়’, বরং দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ খুলে দিতে পারে।
স্বচ্ছতার দাবি ও খসড়া নীতিমালা নিয়ে আপত্তি
জামায়াত নেতা বলেন, নতুন চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য খসড়া নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এ বিষয়ে জনগণের সামনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সংকটের কারণ হিসেবে ‘রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা’ নয়—ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, চলমান সংকটকে ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা বলে দেখানো হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের বক্তব্য, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পরও দেশে দাম না বাড়ানোয় বিপিসির লোকসান হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং জ্বালানি সরবরাহ সংকটকে বেসরকারিকরণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তোলা হয়।
রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে ‘বেসরকারি একচেটিয়া’ আশঙ্কা
জামায়াত নেতা বলেন, জ্বালানি তেল আমদানির জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন এবং বড় অঙ্কের ব্যাংকিং সক্ষমতা প্রয়োজন। বাংলাদেশে এসব সক্ষমতা হাতেগোনা কয়েকটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকার আশঙ্কা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভাঙলে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হতে পারে।
প্রবাসী পাঠকের জন্য বার্তাটি কী
জ্বালানির দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এই সিদ্ধান্ত। বেসরকারি পর্যায়ে বাজার কেমন হবে—এ প্রশ্নের উত্তর প্রবাসী আয়েও প্রভাব ফেলে। কারণ পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম পর্যন্ত—সবকিছুর পেছনে জ্বালানির ভূমিকা থাকে। তাই নীতিমালা স্থগিতের দাবি ঘিরে আলোচনা শুধু রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বাস্তব জীবনেও প্রভাব ফেলবে।
সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর
জামায়াত কী চেয়েছে?
জ্বালানি তেল আমদানি-সংরক্ষণ-বিতরণ-বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি।
তাদের মূল আশঙ্কা কী?
রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হলে জনগণের জন্য বড় সংকট হতে পারে।
কী কারণে তারা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে?
তাদের ভাষ্যে এটি সংস্কার নয়, হস্তান্তর; প্রতিযোগিতা নয়, দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্সের মতো হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









