ইউএনওদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মাঠ প্রশাসনের এই কর্মকর্তাদের ভূমিকা কেবল দাপ্তরিক দায়িত্ব নয়—এটা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগও। প্রবাসী পরিবারসহ দেশের মানুষ যেন সেবা পায়, আর আগামী প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশ যেন আরও নিরাপদ ও বাসযোগ্য হয়—এই বার্তাই সভার কেন্দ্রবিন্দু।
মানুষের সেবা—দায়িত্বের অংশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা সবার জন্য মানুষের সেবা করা বড় আমানত। ইউএনওরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করবেন—এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এমন কাজের দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখতে পারলে শুধু সমস্যার সময় নয়, দীর্ঘমেয়াদেও মানুষের জীবন সহজ হয়।
যুগ বদলাবে, দায়িত্ব থাকবে
সভায় প্রধানমন্ত্রী ‘আজ আমরা আছি, কাল থাকব না’—এই উপলব্ধির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর আহ্বান, এখন থেকেই সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে।
ইউএনওরা জনগণের সেতুবন্ধন
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে সরকারের সেতুবন্ধন হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, উপজেলা হয়তো কর্মকর্তাদের নিজের এলাকা নয়। তবু সেখানে বসবাসকারী মানুষকে নিজের এলাকার মানুষের মতোই ভাবতে হবে।
এই দৃষ্টিভঙ্গির ফল মানুষ পায় দ্রুত—তাদের সমস্যা শোনা, সমাধানের পথে এগোনো, এবং প্রশাসনের উপস্থিতি অনুভব করা।
আইন নয়, মানুষকে বুঝিয়ে পরিবর্তন
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। মানুষকে বুঝিয়ে ও সচেতন করে অনেক জটিলতা কমানো যায়।
তাই ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেন। এতে সমাজে আচরণগত পরিবর্তন আসে, আর অপ্রয়োজনীয় সংঘাতও কমে।
পরিবেশ ও খেলাধুলায় উদ্যোগ
পরিবেশ রক্ষায় মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দূষণের দিক থেকে ঢাকা দীর্ঘদিন শীর্ষে ছিল; তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ উদ্যোগ আরও এগিয়ে নেওয়ার কথাও বলেন।
এ ছাড়া উপজেলা ও পৌরসভায় গাছ লাগানোর যে আগ্রহ আছে, সেখানে সরকারি কর্মকর্তারা উৎসাহ দিলে উদ্যোগ আরও বড় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। একইভাবে খেলাধুলার প্রসারেও ইউএনওদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান—তরুণদের ইতিবাচক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
প্রবাসীদের জন্য বার্তাটা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের প্রশাসনিক মানে মানুষ দ্রুত সেবা পায়—এই বাস্তবতার সঙ্গে ইউএনওদের দায়িত্ব সরাসরি জড়িত। ফলে জন্মভূমিতে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা, সহায়তা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল কাজের প্রভাব পড়ার কথা স্পষ্ট।
প্রশ্নোত্তর
ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মূল বার্তা কী?
দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে মানুষের সেবা করা—এটাই প্রধান বার্তা।
আইন ছাড়াও কীভাবে সমস্যার সমাধান হতে পারে?
মানুষকে বুঝিয়ে সচেতন করার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে বলা হয়েছে।
পরিবেশ বিষয়ে কী বলা হয়েছে?
দূষণ কমাতে উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া এবং গাছ লাগানোর মতো কাজে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: বাসস









