ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন ‘রোডম্যাপ’ বা কর্মপরিকল্পনা দিয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে গালফ নিউজ। এতে পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, ধাপে ধাপে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং সংঘাত অবসানে বিস্তৃত আলোচনার সময়সূচির প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবটিতে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, পুরো অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পর সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় পরিসরে আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।
আঞ্চলিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, প্রস্তাবের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
তবে এই প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ শর্ত বা লিখিত নথির সব বিষয় প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আলোচনার কাঠামো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
হরমুজ প্রণালি খোলার শর্ত
ইরানের কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিলে হরমুজ প্রণালি এক সপ্তাহের মধ্যে খুলে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো রয়েছে। তবে যেকোনো চুক্তিতে ইরানের দাবিগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।
এর মধ্যে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টি অন্যতম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আলোচনায় কূটনীতির সুযোগ দেখছে ওয়াশিংটন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কূটনীতির পথের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে একই সঙ্গে সামরিক বিকল্পও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রায় তিন ঘণ্টা চলে।
তবে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো পুরোপুরি কাছাকাছি আসেনি। ফলে প্রস্তাবটি পরবর্তী আলোচনায় কতটা অগ্রসর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
হরমুজ ঘিরে বাড়ছে চাপ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও অব্যাহত রয়েছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর সংঘাতের প্রভাব পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোও অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি মোকাবিলা করছে।
কাতার, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
এখনো হয়নি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি
ইরানের ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এবং হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সামনে এলেও এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করার কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণা হয়নি।
গালফ নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কের আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন এবং সম্ভাব্য চুক্তির দিকে অগ্রগতির কথা বলেছেন। তবে জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন।
ফলে এখন মূল প্রশ্ন হলো, ইরানের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ওয়াশিংটন ও তেহরান পরবর্তী দফার আলোচনায় যেতে পারে কি না এবং যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়গুলো কীভাবে একই কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।









