জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ছাত্রসংগঠনগুলোর ক্যাম্পাসে অবস্থানের ঘোষণা থামছে না। এতে সবচেয়ে বেশি টান পড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর—নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় মনোযোগ ধরে রাখতে নতুন করে বিড়ম্বনা তৈরির আশঙ্কা করছেন তারা।
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে অবস্থান

রোববার বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের উপস্থিতির ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল—সাম্প্রতিক একটি সভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি।
পরে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ফল উৎসবের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় প্রক্টর অফিস অনুমতি দেয়নি। তবু অনুমতি না পেলেও নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে থাকবেন বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
প্রক্টরকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি বার্তা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বলেছেন, তারা রোববার ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি করতে চান। যদি সুযোগ না মেলে, তাহলে তারা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও বলেছেন।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও একাধিক ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও রোববার ক্যাম্পাসে আসার কথা জানিয়েছেন। ফলে সংঘর্ষের পর তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশ এলেও উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিপদে সাধারণ শিক্ষার্থীরা
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও কর্মসূচির প্রভাব পড়ছে ক্লাস-পরীক্ষার ওপর। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষার পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয়, সেটি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যেই।
নতুন কর্মসূচি, আলফা সানডে’র ডাক
এদিকে ‘ঐক্যবদ্ধ জগন্নাথ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম ‘আলফা সানডে’ নামে কর্মসূচি দিয়েছে। তারা রোববার দুপুরের দিকে ভাষাশহীদ রফিক ভবনের সামনে জড়ো হওয়ার কথা জানিয়েছে। ব্যানারে প্রতিবাদ, ঐক্য ও স্লোগান তুলে ধরা হয়েছে।
এ সময় আবারও ক্যাম্পাসে ভিড় বাড়লে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ক্লাস চলার সময়ে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের প্রত্যাশা—যে কোনো কর্মসূচি হোক, তা যেন শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পড়াশোনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি না করে।
শিক্ষার্থীরা কী বলছেন
- কর্মসূচির অধিকার থাকলেও ক্লাস ও পরীক্ষা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়—সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
- সংঘর্ষের পর প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ দরকার।
- ক্যাম্পাসে উত্তেজনা কমাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যকর সমন্বয় জরুরি।
প্রশ্নোত্তর
রোববার কী ঘিরে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ?
ছাত্রসংগঠনগুলোর ক্যাম্পাসে অবস্থান ও কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে।
কর্মসূচি অনুমতি না পেলেও তারা কেন আসছেন?
অনুমতি না পেলেও নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব কার ওপর পড়ার আশঙ্কা?
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর—যাদের ক্লাস ও পরীক্ষা চলমান।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









