পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে টানটান হতে পারে—মক্কায় সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে এমন আশঙ্কাই প্রকাশ করেছে ভারত। কারণ, এতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে সবার বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে ধরে সমন্বিত জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
চুক্তিতে মূল শর্ত: হামলা মানেই যৌথ প্রতিক্রিয়া

চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ এক দেশের আক্রমণ হলে অন্য দুই দেশ আলাদা করে না ভেবে একসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় যাবে। এতে প্রতিরক্ষার সমন্বয় শক্ত হওয়ার বার্তা স্পষ্ট।
নিরাপত্তা জোটের শক্তি কোথায়—অর্থশক্তি, প্রযুক্তি, সক্ষমতা
এই চুক্তিকে ঘিরে ভারত যেভাবে দুশ্চিন্তায় পড়ছে, তার বড় কারণ—তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা ও সক্ষমতার ধরন একসঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে। উপসাগরীয় অর্থনৈতিক ভিত্তি, তুরস্কের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা—এই সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে আলোচনায় এসেছে।
শুধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়, কারিগরি সহযোগিতার কথাও আছে
চুক্তির আরেকটি দিক হলো প্রতিরক্ষাপ্রযুক্তিতে যৌথ কাজ। যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি আদান-প্রদান, সহজতর প্রতিরক্ষা ক্রয়—এসবের পাশাপাশি ড্রোন, নৌপ্রযুক্তি, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মতো আধুনিক খাতে যৌথ উৎপাদনের কথাও আছে। ফলে এটি কেবল ঘোষণামুখী নাও থাকতে পারে।
জোটটি কি কারও বিরুদ্ধে? সৌদি-তুরস্ক বলছে প্রতিরক্ষামূলক
সৌদি পক্ষ ও তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তিটি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক; কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়। একই সঙ্গে বলা হয়, এতে ধর্মভিত্তিক সামরিক জোটের ইঙ্গিত নেই এবং পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির মতো কোনো উদ্যোগ শুরু হবে না। তবে চুক্তির কাঠামোতে সরাসরি কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড বা স্থায়ী সদর দপ্তর নেই—এটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমঝোতা হিসেবে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য প্রভাব: অঞ্চলের অস্থিরতা মানেই অনিশ্চয়তা
আমরা যে মধ্যপ্রাচ্যে জীবন-জীবিকার টানে আছি, ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা টানটান হলে তার প্রভাব পড়ে চাকরি, চলাচল, ব্যয় ও দৈনন্দিন স্বস্তির ওপর। চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক বলেই বলা হলেও, হামলাকে যৌথ প্রতিক্রিয়ার আওতায় আনার ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়—সেটাই বাস্তব চিন্তার জায়গা।
কয়েকটি প্রশ্ন
প্রশ্ন: চুক্তিতে হামলার বিষয়টি কীভাবে ধরা হয়েছে?
উত্তর: তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে ধরে সমন্বিত জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: এটি কি নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে?
উত্তর: সৌদি ও তুরস্কের বক্তব্য অনুযায়ী চুক্তিটি নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়; প্রতিরক্ষামূলক।
প্রশ্ন: ভারত কেন উদ্বিগ্ন হচ্ছে?
উত্তর: চুক্তির ফলে নিরাপত্তা সমন্বয় ও সামরিক সক্ষমতার সংযোগে অঞ্চলজুড়ে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে—এ আশঙ্কা আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









