GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / সুগন্ধি সাবানের বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের দাপট বাড়ছে

সুগন্ধি সাবানের বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের দাপট বাড়ছে

বাংলাদেশের সুগন্ধি সাবানের বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের পণ্য সারি

একসময় সুগন্ধি সাবানে বিদেশি ব্র্যান্ডের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন সেই চিত্র বদলাচ্ছে—দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো শুধু টিকে নেই, বাজারও বাড়াচ্ছে দ্রুত। প্রবাসী পাঠকসহ ক্রেতাদের জন্য এর লাভটা স্পষ্ট: পছন্দের সুগন্ধ, বৈচিত্র্যময় পণ্যে হাতের নাগাল, আর সাশ্রয়ী দামের চাপে প্রতিদিনের কেনাকাটায় স্বস্তি।

বিদেশি একচ্ছত্র ভাবনা ভেঙে গেছে

বাংলাদেশের সুগন্ধি সাবানের বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের পণ্য সারি

সময় ঘুরে যাওয়ার সঙ্গে পাল্টে গেছে বহু মানুষের পুরনো ধারণা। বিদেশি কোম্পানিগুলো বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য করবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতা করে এখন নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। একই সঙ্গে তারা বাজার সম্প্রসারণেও এগিয়ে যাচ্ছে।

বাজারে দেশীয় প্রভাব সবচেয়ে বেশি

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের সুগন্ধি সাবানের বাজারের আকার প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার। এর বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও বিদেশি কোম্পানির মধ্যে ইউনিলিভারের লাক্স ও লাইফবয় এখনো শক্ত অবস্থানে আছে, তবু দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।

মান, সুগন্ধ ও দামে ভোক্তা আস্থা

স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তার রুচি, ক্রয়ক্ষমতা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন নতুন পণ্য আনছে। উন্নত মান, বৈচিত্র্যময় সুগন্ধ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামের কারণে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা বাড়ছে। ফলে অভিজাত দোকান থেকে শুরু করে মফস্বল, এমনকি পাড়া-মহল্লার ছোট দোকানেও এখন দেশীয় বিকল্প বেশি দেখা যাচ্ছে।

মেরিলের প্রবৃদ্ধি ও নতুন ভ্যারিয়েন্টের দৌড়

দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে স্কয়ার টয়লেট্রিজের মেরিলের বিক্রি প্রতিবছর ১০ শতাংশের বেশি হারে বাড়ছে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা জানান। ভোক্তার চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে তারা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আনছে—যেমন মিল্ক সোপ, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ সাবান এবং সিরাম সাবান। লক্ষ্য একটাই: আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পণ্যের মান ও বৈচিত্র্যে জোর দেওয়া।

প্রতিযোগিতায় কারা আছে, কতটা প্রতিষ্ঠান

দেশে কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান সুগন্ধি সাবান উৎপাদনে যুক্ত। মূল প্রতিযোগিতা হচ্ছে প্রায় ১৫-২০টি প্রতিষ্ঠিত দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানির মধ্যে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮০টি প্রতিষ্ঠান সাবান উৎপাদন করছে। দেশীয় ব্র্যান্ডের তালিকায় আছে স্কয়ার টয়লেট্রিজের মেরিল, কোহিনূর কেমিক্যালের তিব্বত ও স্যান্ডালিনা, এসিআইয়ের স্যাভলন, মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজের কিউট, কেয়া কসমেটিকসের কেয়া, অ্যারোমেটিক কসমেটিকসের অ্যারোমেটিক, লিলি কসমেটিকসের লিলি সোপ, মার্কস অ্যান্ড অ্যালিসের ক্যামেলিয়া এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের লিভানা।

প্রবাসী ক্রেতাদের জন্য কেন জরুরি

প্রবাসে থাকা অনেকেই পরিবারকে বাজার করতে সহায়তা করেন—এ ক্ষেত্রে দেশীয় সুগন্ধি সাবানের দাপট মানে হলো পছন্দের বিকল্প বেশি, দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকছে, আর নতুন সুগন্ধ বা ফিচার নিয়মিত আসছে। দৈনন্দিন এই পণ্যে প্রতিযোগিতা মানে ভোক্তার জন্য লাভ।

প্রশ্নোত্তর

দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো কীভাবে এগোচ্ছে?
ভোক্তার রুচি, ক্রয়ক্ষমতা এবং প্রয়োজন ধরে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে।

বিদেশি ব্র্যান্ড কি একেবারে হারিয়ে যাচ্ছে?
না। লাক্স ও লাইফবয় এখনো শক্ত অবস্থানে আছে, তবে দেশীয়দের প্রভাব বাড়ছে।

বাজারটা কি এখনও সম্ভাবনাময়?
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সুগন্ধি সাবানের বাজারে এখনও সুযোগ রয়েছে এবং দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো সেখানে শক্ত অবস্থান গড়ছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons