GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / প্রবাসের খবর / ভিসা ও ইমিগ্রেশন / অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসা কমানোর প্রস্তাব

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসা কমানোর প্রস্তাব

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ছবি

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভিসা কমানোর প্রস্তাব ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পরিবারকে সঙ্গে আনার সুযোগ সীমিত হলে পড়াশোনা, মানসিক সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছুই নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে মনে করছেন অনেকে।

কেন বাড়ছে চাপ

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ছবি

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাখাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী একটি বড় অর্থনৈতিক স্তম্ভ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবাসনসংকট, বেড়ে যাওয়া ঘরভাড়া এবং নাগরিক পরিষেবার ওপর অতিরিক্ত চাপের প্রসঙ্গ তুলে অভিবাসনে লাগাম টানার দাবি জোর পাচ্ছে। এই যুক্তিকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রস্তাবগুলো নিয়ে তোলপাড় চলছে।

পরিবারভিত্তিক সুযোগ বন্ধের কড়া বার্তা

কট্টর ডানপন্থী ‘ওয়ান নেশন’ দলের নেতা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী কিংবা পরিবারের অন্য সদস্য আসার সুযোগ সম্পূর্ণ বন্ধের পক্ষে কথা বলেছেন। তাঁর অবস্থান অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কেবল পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই আসেন; পরিবারকে সঙ্গে আনার ক্ষেত্রে অনলাইন ক্লাসের মতো বিকল্প ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণ বনাম বাস্তব চাহিদা

বিরোধী কনজারভেটিভ জোটের অবস্থানও ভিন্ন নয়—স্থানীয়দের কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনবল তৈরিতে জোর দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি সীমিত করার দাবি এসেছে। ক্ষমতাসীন লেবার সরকারও কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে, যদিও বিষয়টি সংসদের উচ্চকক্ষে জটিলতায় আটকে গেছে।

সরকারি নতুন শর্তে ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ যাচাই

কড়াকড়ির এই প্রেক্ষাপটে সরকার ‘জেনুইন স্টুডেন্ট’ বা প্রকৃত শিক্ষার্থীদের যাচাই জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইংরেজির ন্যূনতম স্কোর বাড়ানো, এবং ব্যাংকে দেখাতে হবে—এমন প্রয়োজনীয় তহবিলের পরিমাণ বাড়ানোর মতো শর্ত কার্যকর করার কথাও বলা হচ্ছে। লক্ষ্য হিসেবে বলা হচ্ছে, উচ্চশিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ কমানো।

সিডনির প্রবাসীদের উদ্বেগ কোথায়

নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনে সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশিরা সরাসরি প্রভাব দেখছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু খরচ করতে আসেন না; শ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখেন। হঠাৎ করে পরিবারভিত্তিক সুযোগে কড়াকড়ি এলে ভালো শিক্ষার্থীরা বিকল্প দেশ খুঁজে নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও আছে।

আরেকটি বড় দুশ্চিন্তা মানসিক চাপ। পড়াশোনার দীর্ঘ সময় জুড়ে পরিবারকে পাশে না পেলে শিক্ষার্থীর সমর্থন কমে যেতে পারে বলে মত দিচ্ছেন প্রবাসীরা। ফলে নীতি পরিবর্তনের যুক্তি থাকলেও সেটি মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়নের আহ্বানও উঠছে।

অস্ট্রেলিয়ার এই ভিসা-নীতির দিকনির্দেশনা বদলালে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে আবেদন প্রক্রিয়া—সব ক্ষেত্রেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রস্তুতি নিতে হবে নতুনভাবে।

সংক্ষেপে জেনে নিন

প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ায় কোন ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে?

উত্তর: বিদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভিসা কমানোর প্রস্তাব এবং পরিবারভিত্তিক সুযোগ সীমিত করার আলোচনা চলছে।

প্রশ্ন: সরকার এখন কী ধরনের শর্ত জোর দিচ্ছে?

উত্তর: প্রকৃত শিক্ষার্থী যাচাই, ইংরেজির ন্যূনতম স্কোর এবং ব্যাংকে দেখানোর তহবিল—এসব ক্ষেত্রে নতুন শর্ত কার্যকর করার কথা বলা হচ্ছে।

প্রশ্ন: প্রবাসীরা কেন উদ্বিগ্ন?

উত্তর: পরিবারকে সঙ্গে আনার সুযোগ সীমিত হলে পড়াশোনা ও মানসিক সহায়তায় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons