ফারাক্কার ন্যায্য পানি নিশ্চিত করা যায়নি—এমন দাবির পেছনে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ঘাটতি এবং নতজানু নীতিকেই দায়ী করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পানি নিরাপত্তা টিকে থাকলে কৃষি, খাদ্য ও দৈনন্দিন জীবন—সব কিছুর ভিত্তি মজবুত হয়।
নীতিগত ব্যর্থতার ব্যাখ্যা

রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বলেন, বিগত সরকার ফারাক্কার ন্যায্য পানি নিশ্চিত করতে পারেনি। তার মতে, রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং নতজানু নীতির কারণে এই ব্যর্থতা তৈরি হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে। অর্থাৎ শুধু আলোচনা নয়, হিস্যা আদায়ে জোর দেওয়ার কথাই উঠে আসে তার বক্তব্যে।
অভিন্ন নদী, পানি নিরাপত্তা—সব কিছুর যোগ
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ৫৭টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এসব নদীর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আঞ্চলিক শান্তি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং জলবায়ু সহনশীলতা। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিষয়টিও প্রভাবিত হয় বলে তিনি তুলে ধরেন।
তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সীমান্ত পেরোনো নদীগুলোতে সমন্বয় না হলে ঝুঁকি বাড়ে—বিশেষ করে পানি সংকট, বন্যা ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগে।
বিপদের ধরন ও সহযোগিতার ক্ষেত্র
সেমিনারে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি প্রসঙ্গে বলা হয়—দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যা, নদীভাঙন, খরা, লবণাক্ততা ও পানি সংকট ক্রমবর্ধমানভাবে দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থায় নদীর পানির প্রবাহ ও বন্যার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা জরুরি ভূমিকা রাখতে পারে।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ সমাধানে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
পদ্মা-তিস্তা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আশাবাদ
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্নয়নের কাজে নিরলসভাবে এগোচ্ছে। তার কথায়, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরুর আশা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বিষয়ে কারিগরি পরামর্শক কমিটির মতামত পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি খাল খননের মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশের যে লক্ষ্য—সেটি বাস্তবায়নে প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা কী
অভিন্ন নদীর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা কেবল কূটনৈতিক আলোচনা নয়; এতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা সরাসরি প্রভাবিত হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমে পরিবারের খরচ চালান—আর সেই টেকসই জীবনযাপন অনেকটাই নির্ভর করে পানিসংকট সামলানোর সক্ষমতার ওপর।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
ফারাক্কার ন্যায্য পানি নিশ্চিত না হওয়াকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এবং নতজানু নীতির ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিন্ন নদীর সংখ্যা কত?
বাংলাদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ৫৭টি অভিন্ন নদীর কথা বলা হয়েছে।
আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতায় কী ধরনের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে?
তথ্য বিনিময়, যৌথ গবেষণা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









