জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বেসরকারি করতে গেলে লুটপাটের নতুন সুযোগ খুলে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা তুলে ধরেছে ইসলামী আন্দোলন। সংগঠনটির মহাসচিব মনে করছেন, সুশাসন না থাকলে জনগণকে আরও বেশি মূল্য দিতে হবে।
ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা কমছে না

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন বেসরকারি খাতে ছাড়ার “মাশুল” এখনো জাতিকে গুনতে হচ্ছে। ক্যাপাসিটি চার্জকে অভিশাপের মতো উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, এই ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ খাত জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
বাণিজ্যিক সুশাসন ছাড়া বেসরকারিকরণ নয়
ইসলামী আন্দোলনের বক্তব্য, বাণিজ্যিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুতের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাত বেসরকারিকরণ ঠিক হবে না। তাদের ভাষায়, অংশগ্রহণমূলক, জবাবদিহিমূলক, স্বচ্ছ, সংবেদনশীল, কার্যকর ও দক্ষ—এমন সুশাসন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত হওয়া দরকার।
একচ্ছত্র আধিপত্যে স্বচ্ছতা-জবাবদিহি প্রশ্ন
সংগঠনটির দাবি, বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো একচ্ছত্র আধিপত্যবিস্তারে মুনাফালোভী মনোভাব দেখায়। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা, ন্যায়-অন্যায় বাছবিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নেই—আর আইনের প্রতি মান্যতাও দুর্বল। অভিযোগ হিসেবে বলা হয়েছে, আইন মেনে চলার চেয়ে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার কৌশলে তারা বেশি ভরসা রাখে।
ভর্তুকি তুলে দেওয়া বা বেসরকারিকরণের ফল ভাল নয়
ইসলামী আন্দোলন আরও বলেছে, পুঁজিবাদের নীতিতে পরিচালিত আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের পরামর্শ মেনে সবক্ষেত্রে ভর্তুকি তুলে দেওয়া কিংবা জনগুরুত্বপূর্ণ খাত বেসরকারিকরণের পরিণতি কারও জন্যই ভালো হয়নি। সংগঠনটি বলছে, বাস্তব ইতিহাস বলে—বিশ্বের সব সরকারই কোনো না কোনোভাবে ভর্তুকি দেয়, বিশেষ করে যেখানে সুবিধা সার্বজনীন।
রাজস্ব আয় বাড়াতে দক্ষতা ও সততার আহ্বান
অন্যদিকে সরকারের কাছে সংগঠনটির বার্তা—অর্থের দায় কমাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বেসরকারি খাতে না ছেড়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে হবে। রাজস্ব আইন সহজ করার কথাও বলা হয়েছে। তাদের দাবি, কর-জিডিপি অনুপাতের তুলনায় বর্তমানে রাজস্ব আদায় কম, আর এর বড় কারণ হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তাদের দুর্নীতিকে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত মানেই সরাসরি খরচ, ব্যবসার স্থিতি এবং দৈনন্দিন জীবনের দামে প্রভাব ফেলে। সুশাসন ঠিক না হলে জনগণকে বারবার বোঝা বহন করতে হতে পারে—এটাই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আশঙ্কা।
প্রশ্নোত্তর
ইসলামী আন্দোলন কেন বেসরকারিকরণের বিরোধিতা করছে?
তাদের মতে, বাণিজ্যিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বেসরকারিকরণ লুটপাটের সুযোগ বাড়াতে পারে।
ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য কী?
বিদ্যুৎ খাতের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে ক্যাপাসিটি চার্জকে তারা নেতিবাচকভাবে দেখছে।
সরকারের কাছে তাদের প্রস্তাব কী?
তাৎপর্যপূর্ণ খাতে বেসরকারিকরণ ত্বরান্বিত না করে রাজস্ব আদায়ে দক্ষতা ও সততা নিশ্চিত করার কথা বলছে তারা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









