সৌদি আরবের রিয়াদে কারখানার আগুনে নিহত হয়েছেন নাটোরের নলডাঙ্গার প্রবাসী শামীম হোসেন। মারা যাওয়ার আগে তিনি মুঠোফোনে নিজের এক মাসের মেয়ের মুখ একবারই শেষ দেখতে পেয়েছিলেন—কিন্তু আর কোনোদিন কোলে নেওয়া হলো না।
শিশুর মুখ শেষবার দেখার স্মৃতি

পরিবারের ভাষ্য, শামীম হোসেন রোববার সকালে ভিডিও কলে মেয়ুটির মুখ শেষবার দেখেছিলেন। কয়েক ঘণ্টা পর খবর আসে, রিয়াদে কর্মস্থলে আগুন লেগে তিনি মারা গেছেন।
এক মাস চার দিনের শিশুটি এখন বাবার কোলে বড় হবে না—এই আক্ষেপ ঘিরেই দিন যাচ্ছে স্ত্রীর। মেয়ের নাম রেখেছেন ‘ছাপা জান্নাহ’। প্রবাসে থাকাকালে তিনি মেয়ের দেখাশোনা ও উৎসবের কথাও বারবার বলতেন বলে জানালেন স্বজনরা।
কফিনে দেশে ফেরা, কিন্তু বাবা আর পাশে থাকবেন না
পরিবারের পরিকল্পনা ছিল দেশে ফিরবেন কফিনে। তবে সেই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়নি কাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা—শিশুটিকে বাবার সান্নিধ্য দেওয়া। স্বজনদের দাবি, বাবা আসবেন—এমন আশা নিয়ে মেয়ের জন্মের পর থেকে শামীম নিয়মিত ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন।
আগুনে আরও দুজনের মৃত্যু, নলডাঙ্গায় শোকের ঢেউ
নলডাঙ্গার একই এলাকার আরও দুজন প্রবাসীও ওই ঘটনায় নিহত হন—সাব্বির আহমেদ ও রবিউল আউয়াল। তিন পরিবারেই শোক নেমেছে একইভাবে।
সাব্বির আহমেদের বাড়িতেও চলছে মাতম। বাড়ির প্রবেশমুখে স্বজনদের আহাজারি থামছে না। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখন সামনে কীভাবে দিন কাটাবেন—সেই প্রশ্নে জড়িয়ে পড়েছেন।
প্রবাসী পরিবারের দৈনন্দিন নিরাপত্তা প্রশ্ন
এই ঘটনা প্রবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা-ভাবনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। রোজগারের টানে দূরে থাকা মানুষদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনা কতটা অনিশ্চিত—তারই কঠিন বাস্তব সাক্ষ্য হয়ে থাকছে রিয়াদের আগুন।
প্রশ্ন—উত্তর
শামীম হোসেন কোন দেশে নিহত হয়েছেন?
সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মস্থলে আগুনে তিনি নিহত হয়েছেন।
মৃত্যুর আগে শামীম হোসেন কীভাবে মেয়েকে দেখেছিলেন?
মুঠোফোনে ভিডিও কলে মেয়ুটির মুখ শেষবার দেখেছিলেন।
ওই ঘটনায় আরও কারা নিহত হয়েছেন?
নলডাঙ্গার একই এলাকার সাব্বির আহমেদ ও রবিউল আউয়ালও নিহত হন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









