দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী আমিষের অন্যতম ভরসা ফার্মের ডিম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ঢাকার খুচরা বাজারে লাল বা বাদামি ডিমের দাম এক বছরের ব্যবধানে ডজনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৫ সালের ১ অক্টোবরে ঢাকায় ফার্মের লাল ডিমের ডজন ছিল ১৩৫ টাকা। চলতি বছরের একই দিনে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটির হালি ৫০ থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায় এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৪ টাকায়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে হালিপ্রতি দর বেড়েছে প্রায় ১১ থেকে ২২ শতাংশ।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে দেশে ২ হাজার ৪৪০ কোটি ৬৫ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়েছে, যা জনপ্রতি বার্ষিক প্রাপ্যতা ১৩৭টির বেশি। দেশে কোনো ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও বাজারে ডিমের এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিকে ‘সিন্ডিকেট’ ও অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বলে মনে করছেন সাধারণ ক্রেতা ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তদারকির কথা বলা হলেও বাস্তবে বাজারে এর কার্যকর কোনো প্রভাব নেই। এতে করে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ীদের দাবি, পোলট্রি ফিড, ওষুধ ও পরিবহন খরচবৃদ্ধির ফলে জানুয়ারির সাড়ে ৭ টাকার ডিম উৎপাদক পর্যায়ে সেপ্টেম্বরে সাড়ে ১১ টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে গরম আবহাওয়ায় খামারে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন তাঁরা। তবে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


