ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কক্ষে আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বক্তব্য নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা থামছে না। আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রভোস্ট পদত্যাগ এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি তুলেছেন।
ঘটনাস্থলে ডাকসুর সংহতি, স্লোগানে উত্তাপ

রোববার দিনগত রাতে আন্দোলন চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ডাকসুর নেতৃবৃন্দ। এরপর প্রক্টর উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। শিক্ষার্থীরা “প্রক্টর প্রক্টর, দালাল দালাল”—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন, ফলে হল এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ: আগের ঘটনাও ঘিরে প্রশ্ন
জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী মো. আহসান হাবিব অভিযোগ করেন, আগে ছাত্রলীগের কর্মীদের বিরুদ্ধে গেস্টরুমে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ উঠলেও এখন শিক্ষার্থীদের অভিযোগের মুখে প্রভোস্টদের ভূমিকাও প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, প্রশাসন তদন্তের আশ্বাস দিয়ে মূল বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
সিসিটিভি ফুটেজ চাইলে সংঘাত, গেটে তালা
দাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের জানান, প্রভোস্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বিষয়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য প্রভোস্টের কক্ষে যান। বিশৃঙ্খলার অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে কারণেই ডাকসু ও হল সংসদের কিছু নেতা সেখানে প্রবেশ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জুবায়ের আরও বলেন, তারা প্রভোস্টকে বলেন—তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ নেই; কেবল সিসিটিভি ফুটেজটি দিতে চান। এ সময় প্রভোস্ট তাদের সঙ্গে “উগ্র আচরণ” করেন বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। পরে তারা প্রভোস্টের কক্ষের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং সিসিটিভি ফুটেজ না দেওয়া পর্যন্ত তালা বহাল থাকবে বলে জানান।
ফুটেজ না দেখানোয় প্রশ্ন, আন্দোলন অব্যাহত
জুবায়ের বলেন, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটেজ দেখানো হয়নি। প্রভোস্ট নির্দোষ হলে ফুটেজ প্রকাশে সমস্যা কোথায়—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম জুবা জানান, প্রভোস্ট অধ্যাপক ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সমন্বয়হীনতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে সিসিটিভি ফুটেজ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হল প্রশাসন।
এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। তারা প্রভোস্ট পদত্যাগ এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ দাবি করছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে হল প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং নথিভিত্তিক সত্য উদ্ঘাটনের বিষয়গুলো এখানে সরাসরি জড়িত। হল প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও ফুটেজ প্রকাশ—এই দুটোই ভবিষ্যৎ নিয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা নির্ধারণ করে।
প্রশ্ন-উত্তর
শিক্ষার্থীরা ঠিক কী দাবি করছেন?
প্রভোস্টের পদত্যাগ এবং সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ।
সিসিটিভি নিয়ে শিক্ষার্থীরা কেন সরব?
প্রভোস্টের কক্ষে অনুরোধ করেও ফুটেজ দেখানো হয়নি বলে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেল কি?
অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হল প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









