GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে ন্যায়বিচারের প্রতীক

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজনৈতিক সহিংসতা-সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া গতি পেলে সম্পদ-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের বার্তাও স্পষ্ট হয়।

কার্যকর তদন্তের কথা চিফ প্রসিকিউটরের

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে ন্যায়বিচারের প্রতীক

রোববার (১৬ আগস্ট) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত চলছে। তিনি আরও জানান, এটি একটি ইফেক্টিভ ইনভেস্টিগেশন এবং প্রক্রিয়াটিও চলমান।

সংগঠন বনাম ব্যক্তির বিচার—দুইভাবে দেখা হবে

প্রসিকিউটর বলেন, এখানে আওয়ামী লীগকে আলাদা করে দেখা হবে—একটি বক্তব্য সংগঠন নিয়ে, আরেকটি বক্তব্য শেখ হাসিনা প্রসঙ্গকে ঘিরে। তার ক্ষেত্রে দণ্ড হয়েছে এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আর সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হলে, সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রক্রিয়াটি একজন ব্যক্তির মতোই চলতে পারে বলেও তিনি জানান। কারণ, সংগঠনকে জুরিস্টিক পারসন হিসেবে ধরা হয়। তাই সংগঠনের সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক দিক—এসবও তদন্ত-প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারে।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক জরিমানার কথাও

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যদি সংগঠনের মাধ্যমে কোনো আহত-নিহতের ঘটনা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে শুধু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নয়—সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক জরিমানাও হতে পারে। তিনি জানান, এসব বিষয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টে আছে।

সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখা, আদালতের আদেশ সাপেক্ষে বাজেয়াপ্ত

সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সংগঠন হিসেবে যে সম্পত্তি রয়েছে—এ বিষয়ে তাদের জানা মতে দুইটি অফিস আছে, যা এখন পরিত্যক্ত অবস্থায়। পাশাপাশি ৩২ নম্বরের একটি বাড়িও ট্রাস্ট প্রপার্টি হিসেবে থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এ ধরনের সম্পত্তি পরিত্যক্ত হওয়ায় আপাতত সরকারের তত্ত্বাবধানে রাখা যায় বলে তিনি জানান। যাতে এসব সম্পত্তির মধ্যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত না হয়। আদালতের আদেশ সাপেক্ষে সংগঠন হিসেবে বিচার হলে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সম্ভাবনাও আছে বলেও তিনি জানান। তখন সংগঠনের নামে থাকা সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে যাবে।

তদন্ত শেষ হতে কতদিন—নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন

তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংগঠনের ইনভেস্টিগেশন চলছে এবং ইফেক্টিভ ইনভেস্টিগেশন চলছে। তবে তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগবে—এটা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল বলেও জানান। সংগঠন হিসেবে ইনভেস্টিগেশনের ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় বিচার-বিশ্লেষণের দাবিও করে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।


প্রবাসীদের জন্য বার্তা কী

বিচারের এ ধরনের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সহিংসতার দায়বদ্ধতা, সম্পত্তি-সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ-চাহিদার ন্যায়বিচারের পথ—সবই প্রভাবিত হতে পারে। তাই তদন্তের গতি প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ভাবনায়ও ভূমিকা রাখে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোন ধরনের তদন্তের কথা বলা হলো?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানান, সংগঠন হিসেবে কার্যকর তদন্ত চলছে।

ব্যক্তির দণ্ডের সঙ্গে সংগঠনের বিচার কীভাবে সম্পর্কিত?
তিনি বলেছেন, ব্যক্তি ও সংগঠন—দুইভাবে আলাদা করে দেখা যেতে পারে, কারণ সংগঠনকে জুরিস্টিক পারসন ধরা হয়।

সম্পত্তি নিয়ে কী বলা হয়েছে?
সংগঠন হিসেবে বিচার হলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক জরিমানা নিয়েও কথা এসেছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons