GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / ৭০ অনুচ্ছেদের প্রভাব

৭০ অনুচ্ছেদের প্রভাব

বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ক প্রতীকী ছবি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রভাব এখন সরাসরি আলোচনায়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৭০ অনুচ্ছেদ অবৈধ ও বাতিল চেয়ে একটি রিট পিটিশন শুনানির জন্য ধার্য হয়েছে।

কেন ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে রিট

বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ক প্রতীকী ছবি

আবেদনের মূল টান হলো, এই বিধান সংসদ সদস্যের ভোট আচরণকে দলীয় অবস্থানের মধ্যে আটকে দেয়। বলা হয়েছে, সংসদ অধিবেশনে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে, দল ত্যাগ করলে বা দলের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলে সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে।

আবার যুক্তি হিসেবে বলা হয়, এই নিয়ম ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান থেকেই আছে। পাকিস্তান আমলে দলের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হলেও অনেক ক্ষেত্রে দলের বিপক্ষে ভোট বা দলত্যাগের উদাহরণ ধরে বলা হয়, বারবার সরকারের পতনের মতো বাস্তবতার পেছনে এই ধরনের ভাঙন ভূমিকা রেখেছে।

‘প্রভাব’ বলতে আসলে কী বদলায়

৭০ অনুচ্ছেদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো, সংসদে ভোটের ক্ষেত্রে “মর্জির স্বাধীনতা” কতটা থাকে। দল যদি সংসদে কোনো বিষয়ে নিজেদের অবস্থানে কঠোর থাকে, তখন সদস্যের বিপক্ষে ভোট দেওয়া কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কারণ এমন ভোট বা দলত্যাগ হলে সদস্যপদ বাতিলের আশঙ্কা তৈরি হয়।

এতে করে ভোটের ফল কেবল ব্যক্তিগত পছন্দে নয়; দলীয় নিয়ন্ত্রণের কাঠামোর মধ্যে নির্ধারিত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়—এটাই ৭০ অনুচ্ছেদের বড় প্রভাব হিসেবে সামনে আসছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট কীভাবে হয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একই আইনের বিধান অনুযায়ী প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

এ জায়গায় প্রশ্ন দাঁড়ায়—যদি সংসদ সদস্যরা দলের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে না পারেন, তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন প্রয়োজন, নাকি দলীয় সমর্থিত প্রার্থীই বাস্তবে এগিয়ে যান? আলোচনায় এটাও আছে যে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, দলীয় সরকার হবে কি না, নাকি যৌথ বা জাতীয় সরকারের মতো বিন্যাস হবে—এসব বিষয় আগেভাগে নিশ্চিত করা যায় না। এগুলো নির্ভর করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর।

বিকল্প চিন্তা: সংশোধন, বিচারিক পর্যালোচনা নয়

রিটের প্রসঙ্গে ধারণা আনা হয়—নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংসদ গোপন ভোট ব্যবস্থা রাখা, গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা, অথবা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মতো পথ বিবেচনায় আনা যেতে পারে। সংবিধান সংশোধন কীভাবে হবে—এ বিষয়ে বলা হয়েছে সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারার কথা, যেখানে বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি করার সুযোগ সীমিত।

তবে রাষ্ট্রপতির প্রয়োজনে বিচার বিভাগ সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদের আওতায় পরামর্শ বা দিক নির্দেশনা দিতে পারে—এমন ধারনার কথাও আছে। ক্ষমতা পৃথকীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের নীতির কথাও প্রসঙ্গে আসে।

প্রবাসীদের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

প্রবাসীদের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেবল আনুষ্ঠানিক পদ নয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সংসদে ভোটের স্বাধীনতা কীভাবে কাজ করে, ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামোর বাস্তব চিত্র সেটার ওপরও ইঙ্গিত দেয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক স্থিতি আর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাস—সবকিছুতেই এর প্রভাব পড়ে।

সংক্ষেপে প্রশ্নোত্তর

৭০ অনুচ্ছেদ আসলে কী নিয়ন্ত্রণ করে?
সংসদ অধিবেশনে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়া, দল ত্যাগ বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকার মতো আচরণে সদস্যপদ বাতিলের শঙ্কা তৈরি করে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট কি গোপন?
উল্লিখিত আইনের আলোচনায় প্রকাশ্য ভোটের কথাই এসেছে।

রিটে কী চাওয়া হয়েছে?
৭০ অনুচ্ছেদ অবৈধ ও বাতিল চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons