বন্ধ কারখানা চালু করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে ১৭টি ব্যাংক। চলতি সপ্তাহে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চুক্তি হওয়ার কথা থাকায় শিল্প খাতে টাকার জোগান বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন—গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট না কমলে বন্ধ কারখানা সচল রাখাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
৬০ হাজার কোটি প্যাকেজে গতি ফিরবে শিল্পে

গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালু ও স্থবির অর্থনীতি সচল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি দেবে বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর ১৯ হাজার কোটি আসবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে। প্যাকেজের ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বিশেষভাবে বন্ধ কারখানা চালুর জন্য।
৩৭টি ব্যাংক আগেই প্রণোদনা তহবিলের চুক্তিতে
এরই মধ্যে প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ বিতরণে ৩৭টি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এই ধারাবাহিকতায় এবার বন্ধ কারখানাকে টার্গেট করে আরও বড় অর্থের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কাগজে ঋণের অংক ঠিক থাকলেও বাস্তবে উৎপাদন চলতে হলে জ্বালানি নিশ্চয়তাই মুখ্য।
১৭ ব্যাংকের তালিকা—প্রাথমিকভাবে কত দেবে
প্রণোদনা প্যাকেজে অর্থ দিতে সম্মত ১৭ ব্যাংক হলো—সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, ব্র্যাক, সিটি, যমুনা, ডাচ্-বাংলা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট, উত্তরা, প্রাইম, ব্যাংক এশিয়া, এনসিসি, পূবালী, ইস্টার্ন, মার্কেন্টাইল, ট্রাস্ট ও সাউথইস্ট। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ২০ হাজার কোটি, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক ২ হাজার কোটি করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা: গ্যাস-বিদ্যুৎ না হলে ঋণ ঝুঁকি বাড়বে
অনেক উদ্যোক্তার বক্তব্য, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে যেখানে সচল প্রতিষ্ঠানগুলোরই উৎপাদন ধরে রাখা কঠিন, সেখানে বহু বছর বন্ধ থাকা কারখানা ফের চালু করা কতটা কার্যকর হবে—এটাই মূল প্রশ্ন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন দেওয়ার আগে বর্তমানে সংকটে পড়া সচল উদ্যোগগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উঠছে। তা না হলে নতুন করে ঋণখেলাপি এবং ব্যাংকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতেও, কম সুদের ঋণ দিয়ে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা গেলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে ঋণ দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠান যাচাই, অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে টাকার প্রভাব সীমিত হতে পারে।
শিল্পের সঙ্গে প্রবাসী পরিবারের সংযোগ কেন জরুরি
শিল্প টিকলে কর্মসংস্থান থাকে, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ে এবং বেতন-আয়ের প্রবাহও স্থিতিশীল হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই পরিবারে নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠান—কাজ হারানো বা আয় কমে গেলে সেটার চাপও পরিবারে পড়ে। তাই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং ঋণের গুণগত ব্যবহার—দুইটাই এ প্যাকেজকে সফল করবে।
ব্যাংকগুলোর প্রতি নজরদারি থাকছে
চলমান সংকটের কারণে কিছু ব্যাংক তহবিলে অর্থ দিতে অনাগ্রহী হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিনিয়োগ বাড়াতে গ্যাসের সহজলভ্যতা, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।
প্রশ্ন-উত্তর
১) ৬০ হাজার কোটি প্যাকেজে কত অংশ দেবে বাণিজ্যিক ব্যাংক?
৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে বাণিজ্যিক ব্যাংক।
২) বন্ধ কারখানা চালুর জন্য বরাদ্দ কত?
২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বন্ধ কারখানা চালুর জন্য।
৩) উদ্যোক্তাদের বড় উদ্বেগ কী?
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট না কমলে কারখানা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে—এমন আশঙ্কা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









