কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে খাদ্য উৎপাদন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও আয় বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী পরিবারের পাঠানো রেমিট্যান্সের টাকাও বিনিয়োগে টানার মতো সুযোগ তৈরি হচ্ছে নতুন নীতিমালায়।
৬০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্য

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। চলতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
কোন কোন খাতে নতুন উদ্যোগ
নীতিমালায় হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন এবং উট পালন—এগুলোকে কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু শস্য নয়, প্রাণিসম্পদ ও সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কর্মকাণ্ডেও ঋণের সুযোগ থাকছে।
ঋণ পেতে শর্তে ছাড়
প্রকৃত কৃষকের কাছে ঋণ পৌঁছাতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষক কার্ড সংগ্রহের তথ্য হিসেবে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। শস্য ও ফসল খাতে আয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রমে যুক্ত কৃষকদের জন্য পল্লি ঋণ বিতরণেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কৃষক দলের সদস্যসংখ্যার নির্ধারিত সীমা শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পাস বই থাকা বা ইস্যুর বিষয়টিও শিথিল করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ঋণ দেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও শিথিল করা হয়েছে।
নারী ও প্রান্তিকদের অগ্রাধিকার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প জামানত ব্যবহারের পরামর্শও রয়েছে—ফলে অর্থ জোগাড়ের জটিলতা কিছুটা কমতে পারে।
ব্যাংকভিত্তিক লক্ষ্য বণ্টন
নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত অংক এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য পৃথক লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এতে করে বড় অঙ্কের ঋণ বিতরণকে ব্যাংকগুলো আরও সক্রিয়ভাবে বাস্তবায়নের পথে এগোবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কৃষিঋণের এই নীতিমালা প্রবাসী পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ থাকলে স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর আয় স্থিতিশীল করার পথ খুলে।
যাদের জন্য উপযোগী
- হ্যাচারি, মাছের পোনা উৎপাদন, হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন ও উট পালন করতে আগ্রহী কৃষক-উদ্যোক্তা
- প্রাতিষ্ঠানিক শর্তে আটকে থাকা কৃষক, যাদের জন্য বিকল্প জামানতের পরামর্শ আছে
- নারী ও প্রান্তিক কৃষক, যাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে
প্রশ্ন-উত্তর
উট পালন করলে কি কৃষিঋণ পাওয়া যাবে?
নীতিমালায় উট পালনকে কৃষিঋণ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
পাস বই না থাকলেও ঋণের সুযোগ আছে?
কৃষিঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে পাস বই থাকা বা ইস্যুর বিষয়টিও শিথিল করা হয়েছে।
নারী ও প্রান্তিকরা কি অগ্রাধিকার পাবেন?
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নির্ধারিত অংকের ঋণে নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









