খুব ভোরে কবরস্থান ছেড়ে রহমান মিঞা বাড়ি ফেরেন। সারারাত তিনি ছিলেন সন্তানের কবরে। নাতিকে দেখলেই স্মৃতির টান—ছেলের লাশ যেন আর কারও হাতে না যায়, এই প্রতিজ্ঞাই পাহারাকে পরিণত করেছে নিয়মে।
বাবার রাতভর অপেক্ষা

গত সপ্তাহে বজ্রপাতে মারা যান তার ছেলে রহমত। লাশ নিয়ে টানাপোড়েন যেন গ্রামজুড়ে অন্য এক আশঙ্কা তৈরি করেছে। রহমান মিঞা জানিয়ে দেন, তিনি কিছুতেই ছেলের লাশ চুরি হতে দেবেন না। তাই ভোর হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি কবরস্থান ছাড়েন না। মাঝে মাঝে তার সাথে অন্যরাও দেখা যায়।
গ্রামবাসীর আশ্বাস, পাহারার রেওয়াজ
রহমান মিঞার একার সিদ্ধান্ত নয়—গ্রামবাসীও তাকে আশ্বস্ত করে। তবে শুধু আশ্বাস নয়, কাজটা করতে হয় চোখ-কান খোলা রেখে। কারণ বিনসাড়া গ্রামে আগেও লাশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবু উদ্ধার হয়নি, চোরও ধরা পড়েনি। এই অভিজ্ঞতাই রাতের পাহারাকে আরও জরুরি করে তুলেছে।
লোভ আর চক্রান্তের ছায়া
স্থানীয় কচকচানিতে ইঙ্গিত মেলে—লাশের অঙ্গ-হাড় নিয়েই এক ধরনের সিন্ডিকেট সক্রিয়। বজ্রপাতে মারা যাওয়া মানুষের দেহ নিয়ে তাদের আগ্রহও থাকে বেশি। অর্থের লোভ যে মানুষের বিবেককে কতটা নষ্ট করতে পারে, গল্পে তা কঠিনভাবেই উঠে আসে।
বাড়িতে আগুন—সময় বদলে যায়
এরই মধ্যে কুদ্দুস মণ্ডলের বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তেই সবাই আগুন দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে—আর সেই ফাঁকটাই কাজে লাগাতে চায় চক্রটি। রহমান মিঞা দ্রুত বুঝে যান, কবরস্থান তখন ফাঁকা থাকতে পারে। তিনি দৌড়ে সেখানে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করেন—লাশ চুরির ‘আসল সময়’ তখনই হতে পারে।
পাহারা থামলে কী হবে?
গল্পের ভেতর দিয়ে একটা প্রশ্ন ঘুরে আসে—এভাবে কতদিন লাশ পাহারা দেওয়া যাবে? পাহারা বন্ধ হলে কি লাশ আবার চুরি হবে? আর যদি চুরি হয়, তাহলে টার্গেট হবে কঙ্কাল—যা অনেকটাই সীমা পেরিয়ে চলে যেতে পারে। গল্পটি যেন প্রবাসী পাঠকের কাছেও বার্তা দেয়: নিরাপত্তা শুধু আইনেই নয়, মানুষের সম্মিলিত নজরদারিতেও গড়ে ওঠে।
কুদ্দুসের আগুনের দৃশ্য থেকে শুরু করে কবরস্থানে রাতের পাহারা—সব মিলিয়ে দেখা যায়, ভয়কে হারাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায় ঐক্য। কারণ হারানো আপনজনের স্মৃতি মুছে দিতে পারে না কেউ; বরং তা টিকে থাকার সাহসই জাগায়।
কিছু প্রশ্ন
প্রশ্ন: গল্পে মূল বিরোধ কী?
উত্তর: কবরস্থানে লাশ চুরি ঠেকাতে রাতভর পাহারা দেওয়া—এটাই কেন্দ্রীয় টানাপোড়েন।
প্রশ্ন: রহমান মিঞা কেন কবরস্থান ছাড়েন না?
উত্তর: বজ্রপাতে নিহত ছেলের লাশ যেন কারও হাতে না যায়—এই প্রতিজ্ঞার কারণে।
প্রশ্ন: আগুনের ঘটনা গল্পে কী ভূমিকা রাখে?
উত্তর: মানুষের ব্যস্ততা চুরির সুযোগ তৈরি করতে পারে—এ আশঙ্কাই স্পষ্ট হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









