ঢাকা-চট্টগ্রামে এডিস মশা মারতে ব্যবহৃত বেশির ভাগ মশানাশকই এখন আর কাজ দিচ্ছে না। ফলে ডেঙ্গু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়তে পারে—এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা।
ছয় ওষুধের পাঁচটিতেই প্রতিরোধ

ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিন শ্রেণির ছয়টি মশানাশক পরীক্ষা করে গবেষকেরা দেখেছেন, পাঁচটির বিরুদ্ধেই এডিস মশা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। কোথাও কোথাও ওষুধের মাত্রা অনেক বাড়িয়েও বেশির ভাগ মশা টিকে ছিল।
একটিতে তুলনামূলক কার্যকারিতা
তবে অর্গানোফসফেট শ্রেণির ম্যালাথিয়ন প্রয়োগের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাঠ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় পুরো নমুনার মশা মারা গেছে। গবেষণায় এই একটি ক্ষেত্রে তুলনামূলক ফল বেশি দেখা গেছে।
কী কারণে ঝুঁকি বাড়ছে
মশানাশকের প্রতিরোধ তৈরি হলে সেটি শুধু ওই ওষুধেই থামে না। নতুন কোনো ওষুধও দ্রুত অকার্যকর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিজ্ঞানে একে ক্রস প্রতিরোধ বলা হয়। আর এমন পরিস্থিতি ডেঙ্গুর মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা-চট্টগ্রামে কীভাবে পরীক্ষা
গবেষণায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে এডিসের লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সরাসরি লার্ভা সংগ্রহের পাশাপাশি ফাঁদও ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর গবেষণাগারে প্রজাতি শনাক্ত করে বিভিন্ন মশানাশকের প্রতি সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা হয়। প্রথম প্রজন্ম ও সেখান থেকে জন্মানো পরবর্তী প্রজন্ম—দুই ধরনের মশার ফল আলাদাভাবে দেখা হয়েছে।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা
আপনি যেখানে থাকুন, পরিবার বাংলাদেশে থাকলে ডেঙ্গুর মৌসুমে সতর্কতা আরও জরুরি হয়ে উঠছে। এডিস মশার প্রতিরোধ বাড়ার মানে হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পানি জমতে না দেওয়া এবং ঘুমানোর সময় নিরাপদ ব্যবস্থা আগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ১: ছয়টির মধ্যে পাঁচটিই কেন সমস্যা তৈরি করছে?
উত্তর: পরীক্ষায় দেখা গেছে ওই মশানাশকগুলোর বিরুদ্ধে এডিস মশা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
প্রশ্ন ২: তাহলে সব স্প্রে অকার্যকর হয়ে যাবে?
উত্তর: গবেষণায় একটি মশানাশক তুলনামূলক কার্যকর পাওয়া গেছে, তবে প্রতিরোধ দ্রুত বাড়ার শঙ্কাও আছে।
প্রশ্ন ৩: প্রবাসীদের কী করা উচিত?
উত্তর: পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার রাখতে উৎসাহ দিন এবং ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









