হ্যারি–মেগান যুক্তরাজ্যে ফিরলে সরকারি নিরাপত্তা পাবেন কি না—এ প্রশ্নটা এখন সরাসরি আলোচনায়। দম্পতির দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা থাকায় সিদ্ধান্তটা আর আগের মতোই থাকতে নাও পারে।
ফিরছেন লন্ডনের বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়িতে

হ্যারি ও তাঁর স্ত্রী চলতি মাসেই যুক্তরাজ্যে ফিরছেন। লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়িতে তারা উঠবেন। রাজপরিবারের কোনো বাসভবন নয়—এমনটাই বলা হয়েছে।
২০২০ সালের পর নিরাপত্তার ব্যয় নিজেদের
২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্যে তাঁদের সরকারি নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের নিরাপত্তার খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে।
কতটুকু নিরাপত্তা হবে ঠিক করবে র্যাভেক
এবার দীর্ঘ সময়ের জন্য যুক্তরাজ্যে ফেরার ঘোষণা থাকায় সরকারি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত দরকার হবে। যুক্তরাজ্যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় র্যাভেক—রয়্যাল অ্যান্ড ভিআইপি এক্সিকিউটিভ কমিটি। সংস্থাটি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে কাজ করে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ঝুঁকি অনুযায়ী নিরাপত্তার মাত্রা ঠিক করা হয়।
আগে র্যাভেক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, হ্যারি যুক্তরাজ্যে নিয়মিত থাকবেন না। তাই প্রতিবার দেশে আসার সময় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আলাদা করে নিরাপত্তা নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু এবার দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা থাকায় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান—এটি ব্যক্তিগত বিষয়
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, হ্যারি–মেগানের নিরাপত্তার বিষয়টি একেবারেই ‘ব্যক্তিগত’। রাজপরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং হ্যারি–মেগানের জন্য শুভকামনা জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। তবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয় না—কারণ এতে নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
হ্যারি ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে রাজপরিবার ও সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনও দীর্ঘদিনের। এর আগেও যুক্তরাজ্যে আসার সময় সরকারি নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই হয়েছিল, যেখানে হ্যারি প্রতিকূল ফল পেয়েছেন।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিকভাবে যারা আছেন, তাদের কাছে এই খবরটি আসলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়—সে বাস্তব ধারণা দেয়। সরকারিভাবে নিরাপত্তা পাওয়া/না-পাওয়ার প্রক্রিয়া বদলালে জীবনযাত্রা, দৈনন্দিন চলাচল ও নিরাপত্তাজনিত ব্যয়—সবকিছুর উপরই প্রভাব পড়ে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
র্যাভেক কী সিদ্ধান্ত নেয়?
যুক্তরাজ্যে ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণ করে।
আগে কেন সরকারি নিরাপত্তা কমানো হয়েছিল?
২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সরকারি নিরাপত্তা কমিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী কি এই সিদ্ধান্ত নেন?
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজপরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত তাঁর দায়িত্ব নয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









