GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / বাহাদুর শাহ পার্কে ছাত্রদলের শিক্ষালয় চালু

বাহাদুর শাহ পার্কে ছাত্রদলের শিক্ষালয় চালু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বাহাদুর শাহ পার্কে ছাত্রদলের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বাহাদুর শাহ পার্কে সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য ছাত্রদলের পরিচালনায় পাঠদান চলছে।

পার্কঘেঁষা এলাকায় প্রতিদিনই দেখা মেলে এমন শিশুদের, যাদের অনেকেরই স্কুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই বাস্তবতা ধরেই উন্মুক্ত শিক্ষালয় চালু করা হয়েছে, যাতে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা আর সামাজিক মূল্যবোধও শেখানো যায়।

পার্ক এলাকায় নিয়মিত পাঠদানের ব্যবস্থা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বাহাদুর শাহ পার্কে ছাত্রদলের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষালয়

বাহাদুর শাহ পার্ক ও আশপাশের শিশুদের কথা মাথায় রেখে সপ্তাহে দুই দিন—প্রতি শনি ও মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এই শিক্ষালয়ে পাঠদান হয়। লক্ষ্য, স্কুলে যেতে না পারা শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় ফেরার একটা পথ তৈরি করা।

শিক্ষার পাশাপাশি অধিকার ও মূল্যবোধ শেখানো

শুধু পড়ার বই নয়, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিশুদের দৈনন্দিন আচরণ ও ভবিষ্যৎ ভাবনার ভিত তৈরি করার চেষ্টাও চলছে এই শিক্ষালয়ে।

কর্মকর্তাদের পরিদর্শন, নতুন বই-সামগ্রী বিতরণ

শিক্ষালয়ের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। এ সময় শিশুদের পড়াশোনার অগ্রগতি দেখা হয় এবং তাদের হাতে নতুন বই, পুরস্কার ও খেলার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পরে শিশুদের দুপুরের খাবারও দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা করছেন শিক্ষকের দায়িত্ব

পাঠদানের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে দুজনকে স্থায়ী শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. লিখন ইসলাম জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশু যাতে ঝরে পড়ে কিংবা অপরাধের দিকে না যায়—সেই ভাবনা থেকেই উদ্যোগটি নেওয়া। নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী শেখানোর চেষ্টাও করা হচ্ছে।

প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের ভেতরে এমন উদ্যোগ প্রমাণ করে, শিক্ষা শুধুই প্রতিষ্ঠানে সীমিত নয়—যাদের সুযোগ কম, তাদের কাছেও শিক্ষার দরজা খোলা যায়। প্রবাসী পরিবারগুলোও চাইবে, দেশে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ থাকে এবং ঠিকভাবে গড়ে ওঠে।

পার্কে থাকা ১০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইরফান শিক্ষালয়ে পড়তে পেরে আনন্দের কথা বলে। তার ভাষ্য, এখানে অনেক শিশুই পার্কে থাকে এবং সবারই পড়াশোনার সুযোগ নেই। বই পাওয়া ও নিয়মিত পড়ার সুযোগ—দুটোই তার জন্য বড় পাওয়া।

শিক্ষালয় প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

কবে শিক্ষালয় চলে?
সপ্তাহে দুই দিন—প্রতি শনি ও মঙ্গলবার সকাল ৯টায়।

কাদের জন্য এই উদ্যোগ?
সুবিধাবঞ্চিত ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য।

পাঠদানের সঙ্গে কী শেখানো হচ্ছে?
প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়াও শৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক মূল্যবোধ।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons