সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ—কারণ বন্দিশিবিরে স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা নিয়ে এ ধরনের বিরোধের প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানবিক অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়াতেই পড়ে।
চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ ঘোষণা, এরপর কারাগারে প্রত্যাবর্তন

ইমরান খানের জন্য নির্ধারিত সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ বলে ঘোষণা দেন। এরপর ভোরের দিকে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ভিন্ন দাবি উঠেছে।
পিটিআইয়ের অভিযোগ: আদালতের নির্দেশ মানা হয়নি
পিটিআই বলছে, ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে সরকার। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট নির্দেশ অনুসরণ না করায় সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনায় আছে।
কেন PIMS-এ পরীক্ষা—নিরাপত্তা বিবেচনা সামনে
আগে সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে খবর এসেছে। তবে হাসপাতালের বাইরে পিটিআই সমর্থকদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তাকে শেষ পর্যন্ত PIMS-এ চিকিৎসা ও পরীক্ষা করানো হয়।
মেডিকেল টিম, পরিবারের উপস্থিতি ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ
ইমরানের জন্য একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়—এ দলে চক্ষু বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং আরও কয়েকজন চিকিৎসক ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তার বোন উজমা খান উপস্থিত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ভালো না।
কারাগারে থাকাকালে রক্তচাপ ওঠানামা, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও অস্থিরতার মতো সমস্যার কথা বলা হয়েছে। চিকিৎসকরা মানসিক চাপ কমাতে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ, হাঁটাচলা এবং সংবাদপত্র, বই ও টেলিভিশন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন—এমন তথ্যও এসেছে।
আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় সাজাভোগ
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন বলে খবর।
প্রবাসীদের জন্য কেন জরুরি? বন্দিজীবনে চিকিৎসা, আদালতের নির্দেশ পালন ও নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে জড়িয়ে থাকায় এ ধরনের ঘটনা মানবিক ও আইনি প্রশ্ন তোলে। ফলে এখানকার খবর শুধু রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অধিকার ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বাস্তব চিত্রও সামনে আনে।
প্রশ্নোত্তর
ইমরান খানকে কোথায় নেওয়া হয়েছে? সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে ফের আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়।
পিটিআই কী অভিযোগ তুলেছে? শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে পিটিআই।
PIMS-এ পরীক্ষা কেন? হাসপাতালের বাইরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তাকে শেষ পর্যন্ত PIMS-এ চিকিৎসা করানো হয়েছে বলে উল্লেখ আছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









