সৌদি আরবে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের রবিউল ইসলাম হৃদয়ের মরদেহ জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের মহিষডাঙ্গা ভট্টপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
সৌদি আরবের ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বাংলাদেশে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে রবিউল ইসলামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়। অন্য আটজনের মধ্যে সাতজন নওগাঁর আত্রাই এবং একজন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার রাতেই প্রশাসনের সহযোগিতায় রবিউলের মরদেহ নলডাঙ্গার মহিষডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। খবর পেয়ে রাত থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা রবিউলকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভাগ্য বদলের আশায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ঋণ করে সৌদি আরবে যান রবিউল। সেখানে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাকে গোপনে কাজ করতে হয়েছে। প্রায় তিন বছর পর তিনি বৈধ কাগজপত্র পান।
গত দেড় বছরে পরিবারের কিছু ঋণ পরিশোধ করেছিলেন রবিউল। তবে পুরো ঋণ তখনো শোধ হয়নি। পরিবারের ঋণ পরিশোধের পর গ্রামে বাবা-মায়ের জন্য একটি বাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল তার। এরপর দেশে ফেরার কথা ছিল। সেই অপেক্ষার মধ্যেই দেশে ফিরল তার মরদেহ।
নিহত রবিউল ইসলাম হৃদয় মহিষডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে। সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নলডাঙ্গা উপজেলার আরও দুই প্রবাসী নিহত হয়েছেন। তবে তাদের মরদেহ এখনো দেশে পৌঁছায়নি।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতেই রবিউলের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শুক্রবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে নিহত নলডাঙ্গার অপর দুই ব্যক্তির মরদেহ শনাক্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।






