শরীর দুর্বল লাগলেই অনেকে নিজে থেকে মাল্টিভিটামিন খাওয়া শুরু করেন। অনেকের ধারণা, ভিটামিন যত বেশি খাওয়া যায়, শরীর তত ভালো থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি এমন নয়।
মাল্টিভিটামিন কোনো শক্তিবর্ধক ওষুধ নয় এবং সবার সবসময় এটি খাওয়ার প্রয়োজনও নেই। একজন সুস্থ মানুষ যদি সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাবার গ্রহণ করেন, তাহলে প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ভিটামিন খাবার থেকেই পাওয়া সম্ভব।
তবে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাল্টিভিটামিন উপকারী হতে পারে।
যাদের জন্য মাল্টিভিটামিন প্রয়োজন হতে পারে
- দীর্ঘ অসুস্থতা বা বড় কোনো অপারেশনের পর দুর্বলতায়
- গর্ভাবস্থা ও সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়
- বয়স্কদের ক্ষেত্রে, যাদের খাবার গ্রহণ কমে যায়
- যাদের খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য কম বা নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলেন
প্রয়োজন ছাড়া বা দীর্ঘদিন নিজে থেকে মাল্টিভিটামিন খেলে উপকারের বদলে শরীরে ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে কিছু ভিটামিন অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে জমে গিয়ে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে শরীর থেকে সহজে বের হয় না। ফলে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে এগুলো শরীরে জমে যেতে পারে।
যেমন, অতিরিক্ত ভিটামিন ‘এ’ লিভারের ক্ষতি ও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। আবার অতিরিক্ত ভিটামিন ‘ডি’ রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে কিডনিতে পাথর বা কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত আয়রন গ্রহণেও পেটের সমস্যা ও লিভারের ক্ষতি হতে পারে।
তাই শুধু শরীর দুর্বল লাগছে বলে নিজের সিদ্ধান্তে মাল্টিভিটামিন শুরু করা ঠিক নয়। দুর্বলতার পেছনে ঘুমের ঘাটতি, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।
মাল্টিভিটামিন খাওয়ার আগে সত্যিই এর প্রয়োজন আছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে নিশ্চিত হওয়াই নিরাপদ।
লেখক: সিনিয়র মেডিকেল অফিসার, আইওএম।




