যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইরান।
এই প্রকল্পে রাশিয়া ইরানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফাঁস হওয়া রুশ নথি বিশ্লেষণ করে তথ্যটি পেয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
ভ্রমণ রেকর্ডও এই অনুসন্ধানে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সামরিক পেটেন্টও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পটির সাংকেতিক নাম সি৪৩০এল।
এর লক্ষ্য র্যামজেটচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করা।
ক্ষিপ্রাস্ত্রটি শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম হওয়ার কথা।
র্যামজেট প্রযুক্তি বায়ুমণ্ডল থেকে বাতাস গ্রহণ করে।
এই প্রযুক্তি উচ্চ গতিতে দীর্ঘ সময় উড্ডয়নে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধজাহাজে হামলায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্থল লক্ষ্যবস্তুতেও এগুলো ব্যবহার করা সম্ভব।
উচ্চ গতি ও নিচু দিয়ে উড্ডয়ন প্রতিরোধ কঠিন করতে পারে।
এ ধরনের অস্ত্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।
প্রকল্পটির সমন্বয় করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট।
এর সঙ্গে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া যুক্ত রয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি হয় বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার ইরান সফর করেন।
রুশ বিশেষজ্ঞরা ইরানের সঙ্গে ইঞ্জিনের জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেছেন।
তারা দহন স্থিতিশীলতা নিয়েও কাজ করেছেন।
বায়ু প্রবেশপথ নিয়েও কাজ করেছেন।
নোজল নিয়েও রুশ বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রায় দুই ডজন রুশ বিশেষজ্ঞকে ইরানে পাঠানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরানের সামরিক বাহিনীতে মোতায়েন হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রুশ সহায়তায় তৈরি পূর্ণাঙ্গ ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েনও নিশ্চিত নয়।
ইরান অবশ্য র্যামজেট প্রযুক্তি তৈরি ও পরীক্ষা করেছে।
তবে পূর্ণাঙ্গ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রটি কার্যকরভাবে মোতায়েনের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহযোগিতা ইরান-রাশিয়ার সামরিক সম্পর্ককে আরও গভীর করছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ইরানের শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর এই সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।


