শরীয়তপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. আল বিধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহর বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
এ সময় সরকারি দফতরের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা চলছিল। কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে না পাওয়ায় প্রশাসনিক কাজ ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কার্যালয়ে আসা কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী জানান, প্রশাসনিক কাজ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর কিংবা কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তারা অফিসে এসে অপেক্ষা করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় অনেক সময় প্রয়োজনীয় কাজ শেষ না করেই ফিরে যেতে হয়।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা কর্মকর্তার নিয়মিত ও সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা জরুরি। তার উপস্থিতির ওপর বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ নির্ভরশীল হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে তাকে না পাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে।
একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনুমোদন ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় এমন বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ তার উপস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তিনি কর্মস্থলে থাকলে এসব কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. আল বিধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, ‘পারিবারিক কাজ থাকায় অফিসে আসতে আমার দেরি হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো অফিস কর্তৃপক্ষকে কোনো ধরনের অবহিত করিনি।’
এ বিষয়ে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি কর্মস্থলে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদটি উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বহন করে। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।

