তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটির কম্পন নেপালেও অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি)। ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের কয়েক দিন পর আবারও ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে ভিন্ন তথ্য
ইএমএসসির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩ এবং এর গভীরতা ছিল ৩৫ কিলোমিটার।
তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মৃত্যু, আহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
তিব্বতে এর আগেও ভূমিকম্প
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
বন্যায় নেপালে মৃত ১,৩৫৭
ভূমিকম্পের পাশাপাশি নেপাল ও তিব্বত এখনো ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩২৬ জন।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ফলে নেপাল ও তিব্বতে সম্মিলিত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৪৫।
চলছে উদ্ধার অভিযান
নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর নেপালে উদ্ধার অভিযান ১৪তম দিনে প্রবেশ করেছে। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীও রয়েছেন।
টানেল থেকে জীবিত উদ্ধার
উদ্ধার অভিযানে এরই মধ্যে আশার আলো দেখা গেছে। শুক্রবার গভীর টানেলের ভেতর আটকে থাকা দুই নেপালিকে এবং শনিবার একজন চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় আরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের আশা তৈরি হয়েছে।
হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



