ফেনীতে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ১০ বছরের মধ্যে এবার জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বর্তমানে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন শতাধিক রোগী।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ফেনীতে ১৪৫ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ৯ দিনেই আরও ৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফেনী পৌরসভা সময়মতো কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি না নেওয়ায় শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে ডাক্তারপাড়া ও পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।
ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রোকন উদ দৌলা বলেন, নিয়মিত ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা কোনো ওয়ার্ড নেই।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর একই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে কোনো এলাকায় ডেঙ্গু রোগী থাকলে মশার মাধ্যমে ওই এলাকার অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এ অবস্থায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর মশক নিধন কর্মসূচি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
