অচেনা ওয়েবসাইট থেকে আসল অ্যাপের আদলে তৈরি ভুয়া TikTok বা Google Chrome ইনস্টল করলেই বড় বিপদে পড়তে পারেন। ‘রকারোলা’ নামের একটি ম্যালওয়্যার ফোনে ঢুকে ব্যাংকিং তথ্য, পাসওয়ার্ড, ফোনের গোপন তথ্য এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে পারে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্লিপিং কম্পিউটারের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, এই ম্যালওয়্যার ফোনে প্রবেশের পর ২০০টিরও বেশি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।
সাইবার অপরাধীরা ভুয়া অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
যেভাবে ফোনে ঢোকে ‘রকারোলা’
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জিম্পেরিয়ামের তথ্যমতে, হ্যাকাররা আসল অ্যাপের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে। সেখানে Google Chrome বা TikTok ডাউনলোডের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করা হয়।
ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোডের সময় ব্যবহারকারীর সামনে Google Play Protect-এর মতো দেখতে একটি সতর্কবার্তা দেখানো হতে পারে।
অনেক ব্যবহারকারী এটিকে আসল Google নিরাপত্তা সতর্কবার্তা মনে করে পরবর্তী ধাপে অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি দিয়ে দেন। আর সেই সুযোগেই ফোনে ঢুকে পড়ে ম্যালওয়্যারটি।
নকল ব্যাংক লগইন পেজ তৈরি করে তথ্য চুরি
ফোনে প্রবেশের পর ‘রকারোলা’ ম্যালওয়্যার ২১৭টি ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপের নকল লগইন পেজ তৈরি করতে পারে।
ব্যবহারকারী মনে করতে পারেন, তিনি নিজের ব্যাংকিং অ্যাপে লগইন করছেন। কিন্তু বাস্তবে সেই নকল পেজে দেওয়া ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড চলে যেতে পারে সাইবার অপরাধীদের হাতে।
এর ফলে ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
চুরি হতে পারে ফোনের গোপন তথ্যও
শুধু ব্যাংকিং তথ্য নয়, ম্যালওয়্যারটি ফোনের লকস্ক্রিন-সংক্রান্ত তথ্য এবং কনট্যাক্ট তালিকাও হাতিয়ে নিতে পারে।
এ ছাড়া কী-লগার ব্যবহার করে ফোনে টাইপ করা তথ্য রেকর্ড করার সক্ষমতাও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাইবার অপরাধীদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্যাংকের সতর্কবার্তাও আটকে দিতে পারে
‘রকারোলা’র সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি হলো, এটি ব্যাংক থেকে আসা প্রতারণা বা সন্দেহজনক লেনদেনের সতর্কবার্তা আটকে দিতে পারে।
এমনকি সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে সতর্ক করতে আসা ফোনকলও বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম হতে পারে।
ফলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন শুরু হলেও ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে নাও পারেন। এই সুযোগে সাইবার অপরাধীরা অর্থ সরানোর চেষ্টা করতে পারে।
ক্রিপ্টোকারেন্সিও ঝুঁকিতে
ম্যালওয়্যারটির লক্ষ্য শুধু প্রচলিত ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ব্যবহারকারীদের ক্রিপ্টোকারেন্সিও চুরি করতে সক্ষম।
অর্থাৎ ফোনে এমন ম্যালওয়্যার ঢুকে গেলে ব্যাংকিং তথ্যের পাশাপাশি ডিজিটাল সম্পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপ ইনস্টলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা।
Google Play Store বা Samsung Galaxy Store-এর মতো নির্ভরযোগ্য উৎস ছাড়া অন্য কোনো অচেনা ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করাই নিরাপদ।
বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইটে অ্যাপ ডাউনলোডের সময় অস্বাভাবিক নিরাপত্তা সতর্কবার্তা দেখালে সেটি ভালোভাবে যাচাই না করে ইনস্টল করা উচিত নয়।
সাইবার অপরাধীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশলে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। তাই সামান্য অসতর্কতায় ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ডিজিটাল সম্পদ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।







