গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে বুক ধড়ফড় করা বা কপালে ঘাম জমে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি অনেকেই হয়েছেন।
কয়েক মুহূর্ত পর হয়তো বোঝা যায় যে পুরো বিষয়টিই ছিল একটি দুঃস্বপ্ন; কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন কেবল মানুষই কি স্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন দেখে, নাকি অন্য কোনো প্রাণীও দেখে?
বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও ধারণা অনুযায়ী এই প্রশ্নের উত্তর চমকপ্রদ।
শুধু মানুষ নয়, ইঁদুর, কুকুর ও বিড়ালসহ বহু প্রাণীর ঘুমের সময় এমন কিছু মস্তিষ্কীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করা গেছে, যা তাদের জেগে থাকা অবস্থার অভিজ্ঞতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিউ এ. উইলসন ও ব্রুস এল. ম্যাকনটন ১৯৯৪ সালে ‘সায়েন্স’ জার্নালে ইঁদুরের ওপর প্রকাশিত এক গবেষণায় বিষয়টি উন্মোচন করেন।
গবেষণায় দেখা যায়, ইঁদুর জেগে থাকা অবস্থায় ল্যাবিরিন্থে চলাফেরা করার সময় মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের স্নায়ুকোষগুলো যেভাবে সক্রিয় ছিল, ঘুমের মধ্যে ঠিক একই প্যাটার্নে তা আবার কাজ করতে থাকে।
মানুষ ছাড়াও যেসব প্রাণীর স্বপ্ন দেখার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিজ্ঞানজগতে আলোচনা চলছে:
- ইঁদুর: এদের ঘুমের সময় জেগে থাকার অভিজ্ঞতার মেমোরি রিঅ্যাক্টিভেশন বা স্মৃতির পুনঃসক্রিয়তা ঘটে, যা স্বপ্নের মতো অনুভূতি তৈরির মূল ভিত্তি।
- বিড়াল: ১৯৯২ সালে গবেষক মিশেল জুভে দেখান যে, ঘুমের আরইএম (REM) পর্যায়ে বিড়ালের চোখের নড়াচড়া ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গি স্বপ্নের সাথে সম্পর্কিত।
- কুকুর: ঘুমের ঘোরে কুকুরকে প্রায়ই পা নাড়ানো, মৃদু আওয়াজ বা শরীর কেঁপে উঠতে দেখা যায়, যা তাদের দিনের বেলায় ঘটা ঘটনার স্বপ্ন দেখার ইঙ্গিত দেয়।
- পাখি: ২০২১ সালে ‘কনশাসনেস অ্যান্ড কগনিশন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় পাখিদের স্তন্যপায়ীদের মতোই সম্ভাব্য স্বপ্ন গবেষণার উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী: পল আর. ম্যাঙ্গার ও জেরোম এম. সিগেলের গবেষণায় বলা হয়, জটিল মস্তিষ্ক থাকা যেকোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর ঘুমের সময় স্বপ্নের অভিজ্ঞতা লাভ করার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কেন এখন পর্যন্ত বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি?
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের ক্ষেত্রে স্বপ্ন প্রমাণের বড় উপায় হলো ঘুম ভাঙার পর তা মুখে প্রকাশ করা।
যেহেতু প্রাণীরা ভাষায় তাদের অনুভূতি বলতে পারে না, তাই কেবল মস্তিষ্কের তরঙ্গ ও আচরণ দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন হলেও তাদের স্বপ্নে হারানোর ইঙ্গিতই দিচ্ছে বিজ্ঞান।
