জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে দলটি। এনসিপির অভিযোগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার পরিচালিত অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুদক এই অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দলটির দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের হেয় করতে দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
যে অভিযোগ এনসিপির
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পতিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ছড়ানো গুজব ও রাজনৈতিক প্রচারণাকে কাজে লাগিয়ে দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির দলীয়করণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও দাবি করেছে দলটি।
এনসিপির ভাষ্য, নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের তথ্যসূত্রহীন সংবাদকে ভিত্তি করে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধান শুরু করলে সেই অনুসন্ধানের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের এই তৎপরতাকে রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবে দেখছে এনসিপি। দলটির দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় ও হয়রানি করতেই এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে দুদককে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নিরপেক্ষ তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস
তবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদকের যেকোনো অনুসন্ধানে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে এনসিপি।
দলটির নেতারা বলেন, জুলাই সনদে ঘোষিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদক পুনর্গঠন করা হলে যে কোনো অভিযোগের তদন্তে তারা সহযোগিতা করবেন।
অর্থাৎ দুদকের অনুসন্ধানের বিরোধিতা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে দলটি।
দুদক পুনর্গঠনের দাবি, রাজপথে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি
জুলাই সনদের আলোকে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত দুদক পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই দাবি পূরণ না হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
একই সঙ্গে সরকারকে পতিত ফ্যাসিবাদীদের পথ অনুসরণ না করার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি বন্ধের দাবিও জানিয়েছে দলটি।
এখন আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে এনসিপির অভিযোগ এবং দুদকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে।



