ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নিগ্রহসংক্রান্ত বেআইনি ভিডিও প্রচারের অভিযোগের পর কড়া পদক্ষেপের পথে যাচ্ছে মেটা। শিশুদের যৌন নির্যাতন বা তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে এমন কনটেন্ট শনাক্ত হলে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের চাপের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ইনস্টাগ্রামের কিছু বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, ‘রেপ ভিডিও’ ও ‘চাইল্ড ভিডিও’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেআইনি কনটেন্টের প্রচার করা হচ্ছিল। এসব বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীদের কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে ৯৯ টাকার বিনিময়ে এসব ভিডিও পাওয়া যেত বলে অভিযোগ সামনে আসে।
নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞাপন প্রকাশের আগে যথাযথ যাচাই হওয়ার কথা। ফলে এমন ভয়ংকর কনটেন্ট কীভাবে ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপনে জায়গা পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
গত জুলাইয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর মেটাকে নোটিস পাঠায় ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বিবিসির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত আগস্টেও ইনস্টাগ্রামে ২৫০টির বেশি এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছিল।
এরপর মেটার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কীভাবে তাদের যাচাই ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে এসব বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হলো। কেন্দ্রীয় সরকারের চাপের মধ্যেই শিশুদের যৌন নিগ্রহসংক্রান্ত কনটেন্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেয় মেটা।
মেটা জানিয়েছে, তারা ভারতের ইন্ডিয়ান সাইবারক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইফোরসি) পরিচালিত সাইবার অপরাধসংক্রান্ত পোর্টালে অভিযোগ জানাবে। এই পোর্টাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশও ব্যবহার করে।
মেটার এক মুখপাত্র বলেন, সমাজমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শিশুদের যৌন নিগ্রহের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সক্রিয় পদক্ষেপ না নিলে সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে সরকার।
