ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে তাস দিয়ে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযান চালানোর সময় ধস্তাধস্তিতে এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উত্তর পাশে হলপাড়ায় অবস্থিত ওই পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে অভিযান চালায় পুলিশের একটি বিশেষ দল।
পরিত্যক্ত ঘরে জুয়ার আসর
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ওই ঘরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানা।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ার আসরে থাকা ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়।
পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করে। অভিযানে জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা, তাস ও একাধিক স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ৪ পুলিশ সদস্যের পরিচয়
গ্রেফতার পুলিশ সদস্যরা হলেন—পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
ঘটনায় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে জুয়া প্রতিরোধ আইনে ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
মামলার পর গ্রেফতার চার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। অপরদিকে পলাতক দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






