মাদকের সিন্ডিকেটের হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে মাদক আসছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। এখানে আমাদের জিরো টলারেন্স।’ কোনো নেতার পেছনে মাদকের সিন্ডিকেট থাকলেও তাকে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গুম ও ক্রসফায়ার শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে, যেগুলোকে ক্রসফায়ার বলা হয়েছে। বিএনপি করার কারণে গুম এবং জামায়াত করার কারণে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে পুলিশ বাদী ছিল বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মিরাজ শেখের পরিবার যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।
তিনি জানান, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পর আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের অধীনে তাদের সহযোগিতা করা হয়েছে এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে জামিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মব জাস্টিস করে জামিন নেওয়া বা দেওয়ার চেষ্টা করে কিংবা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় যার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাকে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোক, তাকে রক্ষার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি দেখাতে হবে। খুন করে কেউ বাইরে ঘুরে বেড়াবে, এমন পরিস্থিতি হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন সভাপতিত্ব করেন। সভায় বাগেরহাটের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী।
বিকেলে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী, জেলা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
