দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম। অনুমোদিত ২৫৩টি পদের মধ্যে ১৫৭টিই শূন্য থাকায় মাত্র ৯৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম। ফলে একদিকে বাড়ছে কর্মরতদের ওপর কাজের চাপ, অন্যদিকে সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সেবাপ্রার্থীরা।
২০ বছর ধরে জনবল সংকট
যশোর শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ২০ বছর ধরে জনবল সংকট চলছে। সংকট নিরসনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৭৮টি পদে জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
বর্তমানে বোর্ডটির অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার স্কুল-কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতির কারণে একজন কর্মচারীকে একাধিক শাখার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সেবাদানেও ধীরগতি তৈরি হচ্ছে।
সনদ নিতে এসে ভোগান্তি
সনদপত্র উত্তোলন, সংশোধন ও অন্যান্য সেবা নিতে দূরদূরান্ত থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডে আসছেন অনেকে। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা আমজাদ হোসেন জানান, মেয়ের সনদ তুলতে এসে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জনবল সংকটের কারণে দেরি হবে বলে জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা থেকে আসা সুদেব দাসও জানান, দূর থেকে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বরিশালের সুধাংশু কুমার জানান, সনদের ইংরেজি ভাষান্তরের জন্য সারাদিন অপেক্ষা করে সন্ধ্যায় সনদ হাতে পান। পরে সেখানে বানান ভুল দেখতে পেয়ে আবার সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয়েছে।
একাধিক শাখার দায়িত্ব একজনের
জনবল সংকটের কারণে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে।
নিবন্ধন শাখার এক কর্মচারী জানান, ১০ জেলার কাজের জন্য যেখানে একাধিক কর্মী প্রয়োজন, সেখানে তাকে একাই কাজ করতে হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ কাজ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রমাণ শাখার এক কর্মচারী জানান, একজন রাইটার অবসরে যাওয়ার পর তিনি একাই দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে এবং সেবা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
রাত পর্যন্ত কাজ করেও কমছে না চাপ
বিদ্যালয় পরিদর্শক এনামুল কবীর বলেন, তীব্র জনবল সংকটের কারণে তাদের রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। এরপরও সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।
৪৫ পদে নিয়োগের প্রস্তাব
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুল মতিন বলেন, জনবল সংকটের কারণে সেবাদানে সমস্যা হচ্ছে। এ সংকট সমাধানে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৭৮টি পদে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে আপাতত ৪৫টি পদে নিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে একটি প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অনুমোদন পাওয়া গেলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।
দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি
দীর্ঘদিনের জনবল সংকটের কারণে যশোর শিক্ষা বোর্ডের নিয়মিত কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সনদ উত্তোলন ও সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের সময় ও ভোগান্তি বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জনবল সংকট কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।






