GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / বিনোদন ও সংস্কৃতি / বিনোদন / নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে যে স্মৃতি আজও মনে রেখেছেন কনকচাঁপা

নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে যে স্মৃতি আজও মনে রেখেছেন কনকচাঁপা

নায়করাজখ্যাত প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার সান্নিধ্য পাওয়া শিল্পীদের অনেকেই এখনো তাকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এবার নায়করাজের সঙ্গে নিজের পুরোনো স্মৃতি তুলে ধরেছেন সংগীতশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা

কনকচাঁপা জানান, নায়করাজ রাজ্জাক তার গান খুব পছন্দ করতেন। রাজ্জাক প্রযোজিত সিনেমাগুলোতেও তার গান থাকত।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নায়করাজের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরেন কনকচাঁপা।

তিনি লেখেন, ১৯৮৬ সালে একটি অনুষ্ঠানে রাজ্জাকের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়। তার নাম জানার পর রাজ্জাক তাকে বলেছিলেন, ‘এইটুকুন মেয়ে কীভাবে এত ভালো গাইলে? তুমি ছবিতে গেয়েছো?’

কনকচাঁপা জানান, মহানায়ককে চোখের সামনে দেখে তখন তিনি হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলেন। ফলে ঠিকমতো উত্তরও দিতে পারেননি।

পরে একটি প্লেব্যাক রেকর্ডিংয়ে আবার তাদের দেখা হয়। সে সময় রাজ্জাক তাকে বলেছিলেন, ‘আমি জানতাম, এ জায়গাটা তোমার। তুমি তোমার করে নাও, আশীর্বাদ।’

কনকচাঁপার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর রাজ্জাক যতগুলো সিনেমা প্রযোজনা করেছেন, সেগুলোতে তার গান থাকত।

‘কনাচাঁপা’ বলে ডাকতেন

কনকচাঁপা জানান, রাজ্জাক তাকে আদর করে ‘কনাচাঁপা’ বলে ডাকতেন। তার স্বামীকেও ‘জামাইবেটা’ বলে সম্বোধন করতেন। বিষয়টি তার কাছে অনেকটা নিজের মেয়েজামাইয়ের মতোই মনে হতো।

রাজ্জাকের সঙ্গে তার একটি মজার স্মৃতিও তুলে ধরেছেন কনকচাঁপা। তিনি জানান, ছোটবেলায় রাজ্জাক ও কবরীকে দেখে তার মনে হতো, তার সময়ে যদি তাদের পেতেন। এ কথা শুনে রাজ্জাক নাকি বলেছিলেন, ‘আহা! আমাদের সময়ে যদি তোমাকে পেতাম!’

কনকচাঁপা বলেন, এরপর তিনি রাজ্জাকের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলে নায়করাজ তাকে মজা করে বলেছিলেন, ‘এ মেয়ে তো পাগলি আছে!’

তার ভাষায়, এত বড় একজন মানুষ হয়েও রাজ্জাক ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল।

রেকর্ডিংয়ে সবার সঙ্গে খাবার

রেকর্ডিংয়ের সময় সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে রাজ্জাক খাবার খেতেন বলেও জানান কনকচাঁপা। তিনি রেকর্ডিংয়ে ভাত খেতেন না বলে রাজ্জাক তার জন্য কাবাব আনার কথা বলতেন।

কনকচাঁপার ভাষ্য, রাজ্জাক সবসময় পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতেন। তার সন্তানদের মধ্যেও বাবার দেওয়া ভদ্র শিক্ষার ছাপ দেখা যেত।

নায়করাজের ব্যক্তিত্বের কথাও স্মরণ করেন কনকচাঁপা। তার মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে রাজ্জাক আরও পরিণত, রাশভারী ও চুপচাপ হয়ে উঠেছিলেন। তবে হাসলে সেই পরিচিত আকর্ষণ আবার ফুটে উঠত।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের অবদান

নায়করাজের অবদান স্মরণ করে কনকচাঁপা বলেন, তার সাবলীল ও আধুনিক অভিনয় বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কখনো ভুলবে না।

তিনি আরও বলেন, রাজ্জাকের প্রতিভা ও অবদান নিয়ে কথা বলার সাহস তার নেই। তবে তার উপলব্ধি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে রাজ্জাকের শক্তি গুরুত্বপূর্ণভাবে কাজে লেগেছে এবং তিনি বাংলাদেশকে উজাড় করে দিয়েছেন।

শেষে নায়করাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কনকচাঁপা বলেন, ‘নায়করাজ যেখানেই যান, ভালো থাকুন। আল্লাহ আপনাকে শান্তি দিন।’

Social Icons