রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনো কাটেনি। বিশেষ করে আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতাদের দুই বা পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে হচ্ছে। এতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
ছোট বোতলের সরবরাহ সবচেয়ে কম
মুদি দোকানিদের অভিযোগ, গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরও বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ বাড়েনি। পরিবেশকদের কাছে একাধিকবার চাহিদা জানালেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না তারা।
বিশেষ করে আধা লিটার ও এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেশি সংকুচিত হয়েছে। কিছু কোম্পানি তেল সরবরাহ করলেও দুই ও পাঁচ লিটারের বোতলই বেশি দিচ্ছে।
ফলে ছোট পরিবারের ক্রেতারা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রয়োজন এক লিটার, কিনতে হচ্ছে দুই লিটার
যাত্রাবাড়ী মুদি মার্কেটে তেল কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, তার প্রয়োজন ছিল এক লিটার তেল। কয়েকটি দোকানে খুঁজেও সেটি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে দুই লিটারের বোতল কিনেছেন। এতে বাড়তি টাকা খরচ হওয়ায় অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই তাকে বাসায় ফিরতে হয়েছে।
সরবরাহ না থাকায় খোলা তেলের দিকে ক্রেতারা
বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটের কারণে অনেক ক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল কিনছেন। দোকানিরাও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে খোলা তেল বিক্রি করছেন।
তবে বিক্রেতাদের দাবি, বোতলজাত তেলের সংকটের সুযোগে খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে।
বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ থেকে ২০৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটার দরে।
মুনাফা কম, সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ
এক দোকানি জানান, পাঁচ লিটার তেল কিনলেও অনেক ক্রেতা ৫ থেকে ১০ টাকা কম দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার দাবি, বর্তমানে ব্যবসায়ীদের মুনাফা খুবই কম। এর মধ্যেও কোম্পানির কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল না পাওয়ায় দোকানিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

