ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত এলাকাগুলোতে ইরানের প্রভাব ও সামরিক তৎপরতা বাড়ছে বলে দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আইন। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইরানি বিশেষজ্ঞরা পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে অভিযান চালিয়ে মোকা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর পরপরই ওই অঞ্চলে ইরানের তৎপরতা বাড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
রাডার স্থাপনের দাবি
আল-আইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের কৌশলগত উঁচু এলাকাগুলোতে রাডার ব্যবস্থা স্থাপন করেছে ইরান। একই সঙ্গে হানিশ দ্বীপপুঞ্জের কাছে জুকার দ্বীপেও সামরিক তৎপরতা বাড়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে কী ধরনের রাডার স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ
প্রতিবেদনে নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আরও দাবি করা হয়েছে, সোমালিয়ার উপকূল হয়ে ইরানি সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছাচ্ছে।
হোদেইদাভিত্তিক রেড সি ফিশারিজ অথরিটির প্রধান হাসান আল-আত্তাস এসব চালান তদারক করছেন বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। আল-আইনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে একটি চোরাচালান নেটওয়ার্ক কাজ করছে।
ইরানি বিশেষজ্ঞদের বৈঠকের দাবি
আল-আইনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাব আল-মান্দেব, মোকা বন্দর ও বিমানবন্দর এলাকায় ইরানি বিশেষজ্ঞরা মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করেছেন। তারা হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, এসব তৎপরতার মাধ্যমে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলকে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও প্রতিরক্ষা অঞ্চলে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।
স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি
তবে রাডার স্থাপন, অস্ত্র পাচার এবং ইরানি বিশেষজ্ঞদের তৎপরতা নিয়ে আল-আইনের প্রতিবেদনে করা দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে এসব দাবির বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন সূত্রের তথ্য প্রয়োজন।









