GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ইনুর বিরুদ্ধে ৩ অভিযোগ প্রমাণিত, ১০ বছরের সাজা

ইনুর বিরুদ্ধে ৩ অভিযোগ প্রমাণিত, ১০ বছরের সাজা

ইনুর বিরুদ্ধে ৩ অভিযোগ প্রমাণিত, ১০ বছরের সাজা

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২ পাঁচশ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। রায় প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এরই মধ্যে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিন অভিযোগে সাজা

এর আগে ৩০ জুন, ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিটিতে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট কারাদণ্ডের মেয়াদ ১০ বছর

পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

যেসব অভিযোগ প্রমাণিত

তৃতীয় অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ছবি দেখে তালিকা তৈরির উদ্যোগ এবং তাদের আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগে ইনুর দায় প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

ষষ্ঠ অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।

সপ্তম অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সহযোগিতার অভিযোগেও ইনুর দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হবে।

যেসব অভিযোগে খালাস

ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এর মধ্যে ১৯ জুলাই ২০২৪ গণভবনে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের সভায় আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে ইনুর ভূমিকার অভিযোগও ছিল। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন।

এ ছাড়া আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র, ছত্রীসেনা ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ আগস্ট ২০২৪ কুষ্টিয়া শহরে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়ায় এ অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আপিলের প্রস্তুতি

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও বিচারের প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Social Icons