জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলায় ভাষণ দেবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে ভাষণ
২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। এর আগে তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন।
যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারেন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পেতে পারে।
এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর একাধিক কর্মসূচি
২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। সেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশেষ আয়োজন
সফরে বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতেও তাঁর সভাপতিত্বের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গেও বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।






