GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য / স্বাস্থ্য / ‘বাবা, আমি বাসায় যাব’—অনুশ্রীর শেষ কথা

‘বাবা, আমি বাসায় যাব’—অনুশ্রীর শেষ কথা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৭ বছর বয়সেই মারা গেছে চট্টগ্রামের অনুশ্রী দাস। শুক্রবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। মেয়ের জন্য একটি আইসিইউ বেডের খোঁজে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে যোগাযোগ করেন বাবা সুবল চন্দ্র দাস। তবে কয়েকটি হাসপাতালে খোঁজ করেও বেড খালি পাননি বলে জানান তিনি।

আইসিইউ বেডের জন্য হাসপাতালগুলোতে ছুটলেন বাবা

অনুশ্রীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় শুক্রবার চিকিৎসকরা জানান, তাকে শিশু আইসিইউতে নিতে হবে। এরপর মেডিকেল সেন্টার, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, সার্জিস্কোপ ও মা ও শিশু হাসপাতালে যোগাযোগ করেন সুবল। শেষ পর্যন্ত পাহাড়তলীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আইসিইউতে মেয়েকে দেখতে যান সুবল। তখন অনুশ্রীর প্লাটিলেটের মাত্রা কমে সাড়ে ২৩ হাজারে নেমে গিয়েছিল।

বাবাকে দেখে অনুশ্রী বলেছিল, ‘বাবা, আমি বাসায় যাব।’ এটিই ছিল মেয়ের সঙ্গে সুবলের শেষ কথা।

ডেঙ্গু থেকে অবস্থার দ্রুত অবনতি

অনুশ্রী দাস পাহাড়তলীর রেলওয়ে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সুবল ও লিপি দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে সে ছিল ছোট।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর অনুশ্রীর জ্বর আসে। পরে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শুরুতে অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও কয়েক দিনের মধ্যে দুর্বল হয়ে পড়ে সে। কমে যায় খাওয়া-দাওয়াও।

সুবল জানান, অসুস্থতার সময় মেয়ের খাওয়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, টানা দুই দিন অনুশ্রী কিছু খেতে পারেনি।

লাইফ সাপোর্টেও বাঁচানো গেল না

শনিবার সকালে অনুশ্রীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। চিকিৎসকরা পরিবারকে জানান, তার লিভার ও কিডনিও আক্রান্ত হয়েছে এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে নিতে হবে।

শনিবার বিকেল ৩টা ২২ মিনিটে সুবল ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার অনুশ্রী লাইফ সাপোর্টে।’

এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জানান, তার মেয়ে আর নেই।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পাহাড়তলীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে অনুশ্রীর মৃত্যু হয়। রাতে সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মেয়ের জন্য সবার কাছে প্রার্থনা চেয়েছিলেন বাবা

মেয়ের অসুস্থতার সময় সুবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের কাছে অনুশ্রীর জন্য প্রার্থনা ও আশীর্বাদ চেয়েছিলেন। মুসলিম বন্ধুদের মসজিদে গিয়ে মেয়ের জন্য দোয়া করার অনুরোধও করেছিলেন তিনি।

শেষ বিদায়ের আগে নিজের হাতে মেয়েকে সাজিয়ে দেন সুবল

মেয়েকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে চলে গেছে। তাকে বাঁচানোর জন্য আমি সবকিছু করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।’

Social Icons