জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটারে ৭০ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
ডিজেলে ৭০ টাকা লোকসানের দাবি
রিজভী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের আগে দেশে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা। ২০ টাকা বাড়ানোর পর তা হয়েছে ১৩৫ টাকা।
তার দাবি, বাংলাদেশকে ডিজেল প্রায় ২৫০ টাকা লিটার দরে কিনতে হয়। এর ফলে মূল্য সমন্বয়ের আগে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হতো। ২০ টাকা দাম বাড়ানোর পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান থাকবে বলে তিনি দাবি করেন।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে আপাতত বিকল্প নেই। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে, ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
বছরে ৭০ লাখ টন জ্বালানি ব্যবহারের দাবি
রিজভী বলেন, দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের ব্যবহার প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ লাখ টন।
তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।
সরকারের সমালোচনার বিকল্প চাইলেন রিজভী
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি এর বিকল্প কী হতে পারে, বিরোধী দলকে তা বলার আহ্বান জানান রিজভী।
তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহ করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে।
এদিকে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও সোমবার বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধসহ বিভিন্ন কারণে সরকারকে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।
নতুন জ্বালানি মূল্য
সোমবার বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন দামে ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। পেট্রল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।


